মাধবকুণ্ড জলপ্রভাতে পাহাড় ধ্বস। এর ফলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঝুঁকি এড়াতে ঈদ আনন্দে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সর্তক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
দেশের আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, ভূমিকম্প, ঝড়-তুফানে প্রকৃতি রুদ্ররূপ ধারণ করেছে। কয়েক শত বছরের পুরানো পাথর ঘেরা পাহাড় মৌলভীবাজারের প্রাকৃতিক সৌর্ন্দযের অপরূপ লীলা নিকেতন বড়লেখার মাধবকুণ্ডে পাহাড় ধ্বসের ঘটনা ঘটেছে। দেশের একমাত্র জলপ্রপাতের দুইপাশে পাহাড় ধ্বসের কারণে ভ্রমন পিপাসু পর্যটক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে অবিরাম ঝর্ণাধারা আর্ন্তজাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্রটি প্রকৃতির রুদ্র্র-রোষে পড়েছে।
গত ১৪ জুন রাতে দুই শ’ ফুট উপর থেকে বিশাল পাথরের খণ্ডটির ধ্বসে পড়েছে ঝর্ণাধারায়। ওপর দিকে টিলা ধ্বসে পড়ে মূল ঝর্ণার বাম পাশে। এ দিকে মূল প্রবেশ ধার থেকে ঝড়নায় যাওয়ার সরু পথে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে সাময়িকভাবে শ্রী-হারাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনুপন সৃষ্টি মাধবকুণ্ড। মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের অবিরাম ধারা শব্দ সৃষ্টি করছে মায়াময় পরিবেশের। প্রকৃতি যেন বর্ণনার উপাচার নিয়ে সামনে দাঁড়ায়।
পর্যটকদের জন্য উৎকৃষ্ট পর্যটন কেন্দ্র মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত। মায়াময় পরিবেশের টানে ঈদ আনন্দে উপচে পড়েন পর্যটকরা। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এবারের ঈদে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি মৌলভীবাজারের বড়লেখার মাধবকুণ্ডের জলপ্রপাত। যুগ যুগ ধরে এ পাহাড়ী জলকন্যা সৌন্দর্য পিপাসু ও ভ্রমনপিপাসু পর্যটকদের কাছে টানছে। জেলার বড়লেখা উপজেলার ৮নং দক্ষিণভাগ ইউনিয়নের গৌড় নগর মৌজায় মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের অবস্থান। পাহাড়ি ছড়ার প্রায় দুই শ’ ফুট উপর থেকে যুগ যুগ ধরে গড়িয়ে পড়ছে পানি। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতি বছরের মত এবারের ঈদে নারী-পুরুষ, শিশু ও বিদেশী পর্যটকদের মিলনমেলায় পরিণত হবে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত- এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।
কয়েক যুগ ধরে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের অঝরধারা প্রবাহমান থাকলেও সত্তরের দশকে দর্শনীয় স্থান হিসেবে এর পরিচিতি প্রকাশ পায়।
জলপ্রপাত এলাকায় মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় রেষ্ট হাউস, পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে রেস্তোঁরা। মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখায় স্থাপিত দেশের প্রথম ইকোপার্ক, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, আশপাশ এলাকার চা-বাগান, পাহাড়ি টিলা হাকালুকি হাওর দেশী-বিদেশী পর্যটক ও ভ্রমণ পিপাসুদের দিন দিন কাছে টানছে।
এ ব্যাপারে বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ মৌসুমে এ অঞ্চলে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, বছরের শুরুতে দুই দফা ভুমিকম্প, ঝড় তুফান, জলবায়ু আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন এসব কারণে রাস্তায় ফাটল ও পাহাড়ে ধ্বস নেমেছে। বিষয়টি উর্ধতন কর্তপক্ষকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড, এলজিডি ,বনবিভাগসহ একটি বিশেষ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এই মুহূর্তে কিছু করার নেই শীত মৌসুমে মাধবকুণ্ডের শ্রী-বৃদ্ধির জন্য প্রজেক্ট করা হবে। এখন ইজারাদারদেকে বলা হয়েছে তারা যেন সংস্কার করেন।
আসন্ন ঈদে পর্যটকদের উপচে পড়া ঢল কিভাবে সামাল দিবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সর্তকতা অবলম্বন করে পর্যটন পুলিশের মাধ্যমে আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্ট করব।
পাবনার সিরাজগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক আবু সাইদ জানান, আমি আগে এখানে বেড়াতে এসেছিলাম তখন খুব সুন্দর লাগছিল। এখন সেই সুন্দর নেই। এবং ভয় লাগছে পাহাড় ধ্বসের এ দৃশ্য দেখে।
আরেক পর্যটক রিয়াজ জানান, ১৪ জুন রাতের বেলা এ ঘটনা ঘটেছে যদি দিনের বেলা ঘটত তাহলে প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারতো। এ মৌসুমে প্রচুর পরিমাণ আগাম বৃষ্টি হওয়াতে ধ্বস নামতে পারে।
স্থানীয় পর্যটক মনিরুল ইসলাম রিপন জানান, ৫০/৬০ বছরের মধ্যে এখানে এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি ভয়ঙ্কর এত বড় পাথরের খণ্ড খসে পড়েছে।
উপ-বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রাজেশ চাকমা একই মন্তব্য করে জানান, মাধবকুণ্ডের সৌন্দর্য পুণরুদ্ধার করার চেষ্টা করা হবে। বিষয়টি বন-বিভাগের একার নয়। অমরা প্রজেক্ট তৈরি করে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে পাঠাব। আসন্ন ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের সর্তকে থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
সুত্র: নয়াদিগন্ত




