মহিলা অধিদপ্তরের বিরূদ্ধে জাল স্বাক্ষরে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আনোয়ার হোসেন, স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি : স্বরূপকাঠি উপজেলার মহিলা অধিদপ্তরে কিশোর কিশোরী ক্লাবের প্রকল্পের সমন্বয়কারীদের স্বাক্ষর জাল করে টাকা আত্মসাথের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছেন সমন্বয়কারীগন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহকারি মোঃ নুরুজ্জামান, আবেদন ডাক ফাইলে রেখেছেন বলে জানান। কিশোর কিশোরীদের কবিতা ও গান শিখানোর একটি প্রোগ্রাম হাতে নেয় সরকার। এর ধারাবাহিকতায় স্বরূপরকাঠির ১০ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভায় ১১টি ক্লাব গঠিত হয় ২০১৯ সনে। প্রতিটি ক্লাবে ৩০ জন করে ৩৩০ জন কিশোর কিশোরী রয়েছে। এদেরকে সপ্তাহে দুই দিন বৃহস্পতি ও শুক্রবার ১ ঘন্টা করে গান ও কবিতা শিখানো হয়েছে বলে জানান অফিস সহকারি সেলিনা বেগম। প্রতি ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের একজন নির্বাচিত মহিলা জনপ্রতিনিধিকে সমন্বয়কারী হিসেবে সাময়িক নিয়োগ দেয়া হয়। এদেরকে প্রতিমাসে ২০০০ টাকা করে সন্মানী দেয়ার কথা জানান সেলিনা। আর এই সন্মানী সঠিক ভাবে না পাওয়া এবং তাদের স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন করে নেয়ার অভিযোগ করেন সন্বয়কারীরা।
স্বরূপকাঠি ইউপির ১,২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি নাসিমা আক্তার জানান প্রথম ১৮০০ ও দ্বিতীয়বারে ১২হাজার ৮০০ টাকা সন্মানী পাই, কিন্ত আমি অফিসে গিয়ে দেখি রেভিনিউ স্টাম্পের উপর আমার স্বাক্ষর নকল করে ১০ হাজার টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। তখনই আমার সন্দেহ হলে আমি এটা ছবি করে রাখি এবং অফিসে জানতে চাই এ টাকাটা কে তুললো। এসময় অফিস থেকে সেলিনা আপা বলেন এই টাকাটা ফেরত গেছে। রেভিনিউ স্টাম্পের উপর আমার স্বাক্ষর কে করলো জানতে চাইলে তারা নিরব থাকেন।
বিউটি বলেন আমি পৌরসভার ১,২ ও ৩নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করি ২০১৯ থেকে ২০২১ এর ফেব্রূয়ারী মাস পর্যন্ত। কিন্ত মহিলা অধিদপ্তর থেকে আমাকে মাত্র ১৭ শত টাকা দেয়া হয়। আমি আমার সকল পারিশ্রমিক দাবী করলে মহিলা অধিদপ্তরের দায়িত্বরত কর্মকর্তা নুসরাত বলেন আপনার টাকা ফেরত গেছে তাই আর টাকা পাবেন না। কিন্ত অফিসের খাতায় দেখা যায় রেভিনিউ স্টাম্পের উপর আমার স্বাক্ষর জাল করে ১০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে অফিস।
এদিকে পৌরসভার নতুন নির্বাচিত সদস্য মারজান ফেরদৌস বলেন আমি নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২১ সনে এখানে সমন্বকারী হিসেবে যোগদান করি। প্রতিমাসে ২০০০ টাকা করে ১৫ মাসে ৩০ হাজার টাকা পাওয়ার কথা আমার। কিন্ত ২ কিস্তিতে ২৩১০০ টাকা পাই। বাকি টাকার কথা বললে অফিস থেকে সেলিনা বলেন এটা ভ্যাট বাবদ কেটে রাখা হয়েছে।
সারেংকাঠি ইউপির সমন্বয়কারি সানজিদা আক্তার পলি বলেন ২০১৯ থেকে আমি কিশোর কিশোরী ক্লাবের সাথে আছি। আমি এ পর্যন্ত মাত্র ১৮০০ টাকা পেয়েছি। কিন্ত অফিসের খাতায় দেখি রেভিনিউ স্টাম্পের উপর আমার স্বাক্ষর জাল করে ১০ হাজার টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। শুধু আমি নই এরকম আরো ৫/৬ জনের টাকা জাল স্বাক্ষরে তুলে নিয়েছে এই অফিস।
গুয়ারেখা ইউপির পলি বলেন ২০১৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ১৭শত টাকা সন্মানী পাই। বাকি টাকার জন্য জুন মাসে অফিসে গেলে অফিসে কর্মরত সরোয়ার এবং সেলিনা বলেন বিল আসেনি। কিন্ত আমার স্বাক্ষর জাল করে টাকা উঠিয়ে নিয়েছে মহিলা অধিদপ্তর বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আটঘর কুড়িয়ানা ইউপির সমন্বয়কারি শিমুল জানান আমি অন্য উপজেলার সমন্বয়কারীদের মাধ্যমে জানতে পারি তাদের জন্য ১০ হাজার টাকার সন্মানী ছিলো। কিন্ত আমরা পাইনি। অফিসে দেখতে পাই আমার স্বাক্ষর জাল করে ওই ১০ হাজার টাকা তোলা হয়েছে।
এদিকে মহিলা অধিদপ্তরে সদ্য যোগদান করা কর্মকর্তা মনিকা আক্তার জানান ২০০০ টাকা সন্মানীর উপর ১০% ভ্যাট ও ২% ইনকাম ট্যাক্স কাটা হয়। সমন্বয়কারীদের স্বাক্ষর জাল করে সন্মানী তুলে নেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন আমি নতুন এসছি এ ব্যাপারে পূর্বের অফিসার ভালো বলতে পারবেন।
পূর্বে দায়িত্বে থাকা নুসরাত জাহান মুঠোফোনে জানান অনেকের টাকাই সরকারি তহবিলে ফেরত গেছে। রেভিনিউ স্টাম্পের উপর স্বাক্ষর জালের ব্যাপারে তিনি বলেন এরকম কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে অফিসে কর্মরত সেলিনা এবং সরোয়ার ভালো বলতে পারবে।
এ বিষয় সেলিনা বলেন, সমন্বয়কারিদের অনেকের টাকা ফেরত গেছে। ২য় বরাদ্ধের ৬০ হাজার টাকা ও ৩য় বরাদ্ধের ৩৯ হাজার টাকার মতো ফেরত যায়। আগে স্বাক্ষর দিয়ে একাউন্টস থেকে টাকা তুলতে হয় এর পর সমন্বয়কারীরা টাকা পান বলে জানান সেলিনা। স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগের ব্যাপারে বলেন আমি কিছু জানিনা।
জাল স্বাক্ষরের ব্যাপারে স্বরূপকাঠি উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষক সরোয়ার বলেন, ৫ মাসের বরাদ্ধ ১০ হাজার টাকা, এর উপরই তারা স্বাক্ষর দিয়েছেন। তবে তাদেরকে ৫৪০০ টাকা দেয়া হয়েছে। বাকি টাকা আমরা সরকারি খাতে ফেরত দিয়েছি। স্বাক্ষর দিয়ে টাকা উঠানোর পর সেটা কি আবার ফেরত দেয়া যায় প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এভাবেই আমরা করেছি।




