
রাজধানীর মহাখালীর সাততলা বস্তিতে নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। হামলাকারীদের অভিযোগ ছিল হিরো আলম নারীদের গায়ে হাত তুলেছেন। এসময় আলম চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জানান, কোনও মহিলার (নারী) গায়ে হাত তোলার প্রমাণ দেখাতে পারলে তিনি এই নির্বাচনই করবেন না।
বুধবার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টায় মহাখালীর রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইসিডিডিআর,বি) গেট সংলগ্ন সড়ক দিয়ে সাততলা বস্তিতে প্রবেশ করতে গেলে ২০-২৫ জন নারী সদস্যের একটি দল হিরো আলমকে বাধা দেয়। বাধা এড়িয়ে বস্তিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তার ওপর হামলা করা হয়। এ সময় বস্তির বাসিন্দা পরিচয়ে কয়েকজন কিশোর এবং একাধিক ব্যক্তি হামলায় অংশ নেন।
হিরো আলম বলেন, ‘আজ দুপুরে আমরা প্রচারণার জন্য মহাখালীর সাততলা বস্তিতে যাই। এসময় কিছু লোকজন আমাদের পথ আটকায়। তারা আমাদের প্রচারণায় বাঁধা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই কিছু লোকজন ছুটে আসে আমাকে মারতে। তখন আমাদের লোকজন আমাকে বাঁচাতে গেলে, তারা আহত হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ভোটারদের কাছে ভোট চাইতে না পারি, তাহলে কাদের কাছ থেকে ভোট আশা করব। ওরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমার লোকজনেদের মেরেছে। আমার লোকজন কিন্তু কারো গায়ে হাত তোলেনি। আমরা যদি কোনো মহিলার গায়ে হাত তুলে থাকি, আর কেউ যদি তা দেখাতে পারে, তবে আমি এই নির্বাচনই করব না। এটা আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলতে পারি।’
তার কথায়, ‘আওয়ামী লীগের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা আমাকে এই এলাকায় প্রচারণা করতে দেবে না। শুধু তাই না, তারা “জয় বাংলা” স্লোগান দিয়েই আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আজ যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে ভোটের দিন কী হবে? আমি নিশ্চিত, এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না!’
হিরো আলম আরও বলেন, ‘এই বস্তিবাসীকে ওরা জিম্মি করে রেখেছে। হিরো আলম গরিবের কথা বলে, তাই ওরা এখানে আমাকে ঢুকতে দেয়নি। আমি যদি নির্বাচিত হই, তাহলে সংসদে গিয়ে গরিবের ও সত্য কথা বলব। এই ভয়ে ওরে আমাকে আটকাচ্ছে।’
আগামী ১৭ জুলাই ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচন হবে। আসনটিতে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত। অন্যদিকে জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীও আছেন। মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আসনটিতে।
সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ও চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক গত ১৫ মে মৃত্যুবরণ করার পরে এই আসনটি শূন্য হয়। পরে ১ জুন এই আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সে অনুযায়ী, আগামী ১৭ জুলাই হবে নির্বাচন। ব্যালটের মাধ্যমে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে।




