উপমহাদেশশিরোনাম

মলিন পোশাকের জন্য রেস্তোরাঁ থেকে ঘাড়ধাক্কা!

স্বামীর জন্মদিনটা একটু অন্যভাবে পালন করতে চেয়েছিলেন৷ কেক কেটে, মোমবাতি জ্বালিয়ে জন্মদিন তো সবাই করে৷ কিন্ত্ত নিজেদের আনন্দ বাকিদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুভূতিটাই আলাদা৷ তাই ফুটপাথের গরিব কচিকাঁচাদের সঙ্গে নিয়ে রেস্তোরাঁয় নৈশভোজের পরিকল্পনা করেছিলেন লেখিকা সোনালী শেট্টি৷ আর যাদের দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোটে না রোজদিন, সেই পিঙ্কি-বাবলুরাও ঝাঁ-চকচকে রেস্তোরাঁয় ঢুকে একেবারে আনন্দে আত্মহারা৷

তবে এই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি৷ দিল্লির অভিজাত রেস্তোরাঁ আর কী করে এই মলিন বেশের বাচ্চাগুলোকে হজম করতে পারে? অতএব স্যুট-টাই পরা এক ভদ্রলোক এসে সটান সবাইকে বেরিয়ে যেতে বললেন৷ আপত্তি জানিয়েছিলেন শেট্টি দম্পতি৷ ‘আরে আমরা পয়সা দিয়ে খাব৷ আমাদের বের করছেন কেন?’ উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি রেস্তোরাঁর সেই ভদ্রলোক৷ অগত্যা একরাশ লজ্জা নিয়ে বেরিয়ে আসতে হয় বাবলু-পিঙ্কিদের৷

কম দামের অন্য একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে এরপর খাওয়া -দাওয়া সারেন সকলে৷ কিন্ত্ত স্বামীর জন্মদিন যিনি পথশিশুদের সঙ্গে কাটান, এই অপমান যে তিনি সহজে মেনে নেবেন না তা বলাই বাহুল্য৷ খাওয়া-দাওয়ার পর সটান আগের রেস্তোরাঁয় চলে আসেন তিনি৷ তবে এবার আর ভেতরে ঢোকেননি৷ রেস্তোরাঁর দোরগোড়াতেই অবস্থানে বসে পড়েন সোনালী শেট্টি৷ প্রথমে খুব একটা পাত্তা দেয়নি অভিজাত রেস্তোরাঁটি৷ কিন্ত্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকাতে চারপাশে ভিড় জমতে থাকে৷ নিরুপায় হয়ে সোনালীকে উঠে যাওয়ার অনুরোধ করেন রেস্তোরাঁর কর্মীরা৷ টানা ১০ ঘণ্টা রেস্তোরাঁর সামনে বসে থাকেন তিনি৷ আগুনের মতো খবর ছড়িয়ে পড়ে৷ সোনালী শেট্টি জানতে চান, ‘কোন যুক্তিতে বাচ্চাদের বের করে দেয় রেস্তোরাঁ? শুধুই ভালো পোশাক না থাকাটা অপরাধ৷ আমরা সমানাধিকারের কথা বলি৷ এই তার নিদর্শন?’

গোটা ঘটনায় শেট্টি দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছে দিল্লি সরকার৷ দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণিশ সিসোদিয়া টুইট করে লেখেন, ‘এ সহ্য করা যায় না৷ খুবই আমানবিক৷ আমাদের সংবিধান সমানাধিকারের কথা বলে৷ এই ঔপনিবেশিক মানসিকতা মানা যায় না৷ দিল্লির জেলাশাসককে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে বলেছি ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেছি৷’

উপ-মুখ্যমন্ত্রীর ইঙ্গিত, প্রয়োজনে রেস্তোরাঁর লাইসেন্স বাতিল করে দিতে পারে দিল্লি সরকার৷

ইতিমধ্যে দিল্লি সরকারে পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দিল্লি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট গতকাল রোববার সকালে ওই রেস্তোরাঁটি পরিদর্শন করেছেন এবং স্টাফদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।

বিতর্কের মুখে পড়ে সুর নরম করেছে রেস্তোরাঁটি৷ রেস্তোরাঁর মূখ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা রোমা মহাপাত্র আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেন, ‘বাচ্চারা রেস্তোরাঁয় ঢুকে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে দিয়েছিল৷ অন্যান্য কাস্টমারদের অসুবিধে হচ্ছিল৷ তারা আমাদের কাছে এসে অভিযোগ জানায়৷ তাই বাধ্য হই সবাইকে বের করে দিতে৷ তারা অবশ্য ওই মহিলার বিরুদ্ধেও খারাপ আচরণের অভিযোগ তুলেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button