slider

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চা শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট চলছে

চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে আজ শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন। দেশের ১৬৭টি চা বাগানের মতো মৌলভীবাজারের ৯২টি চা বাগানের শ্রমিকরা অংশ নিচ্ছে এই ধর্মঘটে।
এর আগে গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও, ফিনলে টি কোম্পানি, নাহার, এম আর খান, ইস্পাহানি, মির্জাপুর, জঙ্গল বাড়ি, মাজদিহি চা বাগান; সদর উপজেলার হামিদিয়া, প্রেম নগর, মৌলভী চা বাগান; কমলগঞ্জের কুরমা, চাম্পারায়, ফুলবাড়ি ও নূরজাহান, ভাড়াউড়া চা বাগানসহ রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী ও বড়লেখার বিভিন্ন চা বাগানে চতুর্থ দিনের মতো সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত দু’ঘণ্টা কর্মবিরতি, প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করে চা শ্রমিকরা।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক নৃপেন পাল জানান, তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
তিনি বলেন, শনিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্ঠকালের জন্য বাগানে কাজ বন্ধ রেখে পূর্ণদিবস ধর্মঘট পালন করবে। প্রতিটি উপজেলায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল পালন করবে।
চা শ্রমিকরা জানান, তাদের হাড়ভাঙ্গা খাটুনিতে প্রতি বছর চা শিল্পে রেকর্ড চা উৎপাদন হচ্ছে। ২০২১ সালে দেশের ইতিহাসে চায়ের রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন ৯৬ মিলিয়ন কেজি চা হয়েছে। কিন্তু তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন আজও হয়নি। চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দুটি চুক্তি বাস্তবায়ন করা হলেও বারবার মার খাচ্ছেন চা শ্রমিকরা।
দেশের অন্যতম বৃহৎ চা শিল্পের সাথে জড়িত প্রায় দেড় লক্ষাধিক চা শ্রমিকদের মজুরি দৈনিক ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে গত ৯ আগস্ট মঙ্গলবার থেকে মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত ৯২টি চা বাগানসহ দেশের ১৬৭টি চা বাগানে কর্ম বিরতি পালন করে চা শ্রমিকরা। তাদের ন্যায্য দাবি না মানায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণদিবস ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে চা শ্রমিকরা।
চা শ্রমিক ইউনিয়নের বালিশিরা ভ্যালির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা বলেন, বর্তমান সময়ে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধগতির কারণে আমাদের চা-শ্রমিকরা দৈনিক ১২০ টাকা মজুরি দিয়ে অনেক কষ্টে দিনযাপন করছেন। প্রতিটি পরিবারে খরচ বেড়েছে। আমরা একাধিক সময়ে বাগান মালিকদের সাথে বৈঠক করছি। চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাগান মালিকদের চুক্তি অনুযায়ী মজুরি বৃদ্ধি করার কথা থাকলেও মালিকরা চুক্তি ভঙ্গ করছেন। চা শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির এ দাবি দীর্ঘ দিনের।
তিনি বলেন, প্রতি বছর মজুরি বাড়ানোর কথা থাকলেও গত তিন বছর ধরে নানা টালবাহানা করে মজুরি বাড়ানো হচ্ছে না। এতে করে চা শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button