ভয়াবহ দাবানলে অস্ট্রেলিয়ায় ৩ জন নিহত
অস্ট্রেলিয়ায় ভয়াবহ দাবানলে এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এ ছাড়া চারজন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। আগুনের কারণে দেশটির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিনই মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও কর্তৃপক্ষ এখনো পর্যন্ত মৃত্যুর সর্বমোট কোনও পরিসংখ্যান দেয়নি।
অস্ট্রেলিয়া জুড়ে দাবানল থামার তো কোনও লক্ষণই নেই, বরং প্রতিদিন বাড়ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সেথানকার ছবিতে দেখা যায়, আগুনের তাপে দেশটির আকাশ রক্তবর্ণ ধারণ করেছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসে শত শত মানুষ গৃহহীন হয়ে ও আগুনের তাপ থেকে বাঁচতে সমুদ্রের ধারে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘর বাড়ি সব আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে৷ স্থানীয়রা বলেন, লাল হয়ে ওঠার আকাশের নিচে নৌকায় বা উপকূলে তাঁবু বানিয়ে বসবাসের অভিজ্ঞতা ভয়ানক।
মঙ্গলবার দক্ষিণ পূর্ব অস্ট্রেলিয়ার মালাকুটা অঞ্চলে একটি সমুদ্র সৈকতে প্রায় চার হাজার মানুষের আটকে পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো অঞ্চলই দাবানলের কবলে চলে যাওয়ার ফলে প্রাণ বাঁচাতে এলাকার মানুষ সমুদ্রের ধারে আশ্রয় নিয়েছেন। আগুনের বলয় ক্রমশ ধেয়ে আসছে সৈকতের দিকে। কিন্তু সমুদ্র সৈকত থেকে বার হওয়ার কোনও রাস্তা খোলা নেই। এ অবস্থায় নৌকা এবং বিমানে করে সেখানে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। গোটা অঞ্চল ঘিরে রেখেছেন দমকলকর্মীরা।
নিউ সাউথ ওয়েলস অঞ্চলে আগুনের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে এক দমকল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দাবানলের মধ্যেই আচমকা ওই অঞ্চলে শুরু হয় টর্নেডো। আগুনের গোলা সমেত সেই টর্নেডো আস্ত একটা দমকলকে হাওয়ায় তুলে নেয়। সেই গাড়ির ভেতরেই ছিলেন একজন কর্মী। ঘটনাস্থলেই ঝলসে মৃত্যু হয় তার।
মালাকুটার সাম্প্রতিক অবস্থা আরও আশঙ্কাজনক। বেশ কিছু পর্যটক আগুন থেকে বাঁচতে সমুদ্র সৈকতে আটকে পড়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, চারজন পর্যটকের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। আটকে পড়া সাধারণ মানুষদের ভয় না পাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।
অস্ট্রেলিয়ার জঙ্গলে গ্রীষ্মকালে দাবদাহের কারণে দাবানল দেখা যায়। স্থানীয়রা একে বলে থাকে বুশফায়ার। মাঝে মাঝেই মারাত্মক আকার ধারণ করে এটি। আগুনের রোষের মুখে অসহায় হয়ে পড়ে মানুষ। সম্প্রতি দেশটির নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যে এক ডজনেরও বেশি দাবানল ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এই দাবানলকে জরুরি মাত্রা বলে ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
আগুন থেকে বাঁচতে উপকূলে আশ্রয় নেওয়া মানুষের জন্য খাবার ও পানি সরবরাহের জন্য নৌবাহিনীর জাহাজ মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে ভিক্টোরিয়া রাজ্য প্রশাসন।
সূত্র: ডেইলি মেইল, ডয়েচে ভেলে।




