আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

ভ্যাকসিন নিয়ে সুখবর দিল যুক্তরাষ্ট্রের মডার্না

করোনাভাইরাসের প্রথম কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি মডার্না। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের সঙ্গে যৌথ প্রচেষ্টায় উৎপাদিত ভ্যাকসিনের প্রথম ধাপের পরীক্ষামূলক ফল ইতিবাচক এসেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
মডার্না বলছে, প্রথম নিরাপত্তামূলক ট্রায়ালে আটজনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তাদের শরীরে ‘নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি’ এমন মাত্রায় তৈরি হয়েছে, যা করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির সমপর্যায়ের।
এই ভ্যাকসিন নিয়ে করোনামুক্ত থাকা যায় কি-না তা জানতে জুলাইয়ের দিকে বিস্তৃত ট্রায়াল শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস এরই মধ্যে বিশ্বজুড়ে কেড়ে নিয়েছে ৩ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ। আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ৪৮ লাখ! কিন্তু এখন কভিড-১৯ এর তেমন কোনো কার্যকরী টিকা বা ওষুধ আবিষ্কার করা যায়নি। যত দ্রুত সম্ভব কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কারে বিশ্বজুড়ে কাজ করে যাচ্ছে অন্তত ৮০টি গ্রুপ।
এই প্রতিযোগিতায় অনেকটাই এগিয়ে মডার্না। তারাই প্রথম মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক ট্রায়ালে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, তাদের উৎপাদিত ভ্যাকসিনটির নাম ‘এমআরএনএ-১২৭৩’।
মডার্নার এই টিকা পরীক্ষামূলকভাবে গত মার্চে মানুষের শরীরে প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজ। তাতে দেখা যায়, এই ভ্যাকসিন নেওয়ার ফলে শরীরে এক ধরনের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, যা করোনাভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে।
ট্রায়ালে ৪২ জন মানুষের ওপর এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম কেবল আটজনের শরীরে ‘নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি’ পাওয়া গেছে।
ট্রায়ালে অংশগ্রহণ করা মানুষের ওপর নিম্ন ও মাঝারি বা উচ্চ মাত্রায় ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়। এর মধ্যে যাদের শরীরে উচ্চ মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়েছে তাদের মধ্যে অনেক পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
মডার্না জানিয়েছে, যাদের শরীরে নিম্ন মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়েছে তাদের শরীরেই কভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তির সমান অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। আর যাদের শরীরে মাঝারি মাত্রায় প্রয়োগ করা হয়েছে তাদের অ্যান্টিবডি করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠা ব্যক্তির চেয়ে ‘উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ছাড়িয়ে গেছে’।
এই ভ্যাকসিন নিরাপদ কি-না তা জানার জন্য এটা প্রথম ট্রায়াল ছিল। সত্যিই এটা করোনা থেকে মানুষজনকে নিরাপদ রাখতে পারে কি-না তা জানতে বড় আকারের ট্রায়ালে যেতে হবে। অবশ্য ইঁদুরের ওপর প্রয়োগ করে দেখা গেছে, এই ভ্যাকসিন ফুসফুসকে ভাইরাস মুক্ত রাখতে পারে।
মডার্নার প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. টাল জ্যাকস বলেছেন, “প্রথম ধাপের পরীক্ষার এসব তথ্য-উপাত্তে দেখা গেছে, প্রাকৃতিক ভাইরাসগুলোর সংক্রমণের মতোই এমআরএনএ-১২৭৩ ভ্যাকসিন প্রয়োগের ফলে কোনো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে, যা ভাইরাসটিকে আটকে দিতে পারে।”
“এসব তথ্য-উপাত্ত আমাদের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে যে, কভিড-১৯ রোগের প্রতিরোধে এমআরএনএ-১২৭৩ এর কার্যকারিতা আছে।”
মডার্না জানিয়েছে, জুলাইয়ের দিকে এই ভ্যাকসিনের আরও বিস্তৃত পরিসরে ট্রায়াল শুরু গতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button