জাতীয়শিরোনাম

ভোট কেন্দ্রে গণজোয়ার ঘটালেই ব্যর্থ হবে প্রশাসনের অপকৌশল

আজ ভোটারদের মাঝে উদাসিনতা দেখা দিয়েছে। গণউদাসিনতাই সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বড় বাধা। গণউদাসিনতা কাটিয়ে ভোট কেন্দ্রে ব্যাপকভাবে গণজোয়ার সৃষ্টি করলে প্রশাসন বা যারা কারচুপির ফাঁদ পাতে তাদের অপকৌশল ব্যর্থ হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন দেশের স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, একতরফা ও জবরদস্তিমূলক ভোট ছিনতাই সংস্কৃতি, উপযুক্ত প্রার্থীর অভাব, নির্বাচনের পর নির্বাচিতদের গণবিচ্ছিন্নতা, আইনের শাসনের অনুপস্থিতিই এই গণউদাসিনতার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দীর্ঘ দিন ধরে স্থবিরতা চলছে। এখানে বহুমুখী সংস্কারের প্রয়োজন। তবে এই মূহূর্তে নির্বাচনী আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নির্বাচন কমিশনের কোনো ইনটেনশন কাজ করছে কিনা সেটা দেখতে হবে।
খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচন উপলক্ষ্যে নাগরিক ভাবনা শীর্ষক সুশাসনের জন্য নাগরিক বা সুজনের উদ্যোগে আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বিশিষ্টজনেরা এই অভিমত ব্যক্ত করেন। সুজন সভাপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম. হাফিজউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের নির্বাহী সদস্য ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ। বক্তব্য রাখেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার বিগ্রেডিয়ার অব. এম সাখাওয়াত হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, ব্যারিষ্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া, ব্যারিষ্টার রুহিন ফারহান, বিধানচন্দ্র পাল, গাজীপুরের ভোটার পাঠান আসাদ প্রমুখ।
বিগ্রেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন নিষ্কলুষ নির্বাচন। ২০০৩ সালের নির্বাচনে ১১৭জন মারা যায়। জিনজিরায় একজনকে কেটে টুকরো টুকরো করা হয়।
ভোটকেন্দ্রে যদি এজেন্ট ও ভোটাররা শক্তভাবে অবস্থান নিতে পারেন, তাহলে কেন্দ্র দখল কেউ করতে পারবে না। এজেন্টদেরকে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাদেরকে আইনগুলো সম্পর্কে বোঝাতে ও সচেতন করতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেনা মোতায়েনে সরকারি দলের কী সমস্যা? এখন আইন পরিবর্তন করার বিষয়ে কোনো ধরণের ইনটেনমন আছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। রাতের বেলায় বুথে ব্যালেট পেপার বরে রাকা আমাদের একটা সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।
প্রবন্ধে ড. তোফায়েল আহসেদ বলেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় দীর্ঘ দিন ধরে স্থবিরতা চলছে। এখানে বহুমুখী সংস্কারের প্রয়োজন। এসব সংস্কারের ভাবনা আজকাল আর আলোচনা হয় না। শুধু নির্বাচনকালীন নির্বাচনকে ঘিরেই যতসব আলোচনা। ফলে স্থানীয় সরকার ব্যবন্থাকে কার্যকর করার বিষয়টি অবহেলিতই থেকে যায়। তিনি বলেন, আজ ভোটারদের মাঝে উদাসিনতা দেখা দিয়েছে। গণউদাসীনতাই সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বড় বাধা। গণউদাসিনতা কাটিয়ে ভোট কেন্দ্রে ব্যাপকভাবে গণজোয়ার সৃষ্টি করলে প্রশাসন বা যারা কারচুপির ফাঁদ পাতে তাদের অপকৌশল ব্যর্থ হবে।
খালেকুজ্জামান বলেন, এসবকে এখন স্থানীয় সরকার বলা যাবে না। কেন্দ্রীয় সরকারের সম্প্রসারিত কাঠামো। আজ নির্বাচিত মেয়র, কাউন্সিলর মিলে তিন শতাধিক জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত হয়ে আছে। আইনি কোনো শাস্তিপ্রাপ্ত নয় তারা। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের সচিবের একটি চিঠিতে তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে এটাকে স্থানীয় সরকার বলা যায় না। তাই উচিত হবে এখানে আমলাদের নিয়োগ দেয়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button