slider

ভুটানের রাজার কুড়িগ্রাম অর্থনৈতিক অঞ্চল সফর

এ আর লিমন, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের বাসিন্দাদের সংসার চালাতে কাজের খোঁজে রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় যেতে হয়। এলাকায় কর্মসংস্থানের খুব একটা সুযোগ নেই। তারা এখন দরিদ্রতাকে বিদায় জানানোর স্বপ্ন দেখছেন। কেননা, কুড়িগ্রামে গড়ে উঠছে ‘ভুটানি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’।
২৮ মার্চ ২০২৪ কুড়িগ্রাম জেলা সফর করেন ভূটানের মহামহিম রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক।

ভূটানের মহামহিম রাজাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান জেলা প্রশাসক মো: সাইদুল আরীফ ও পুলিশ সুপার আল আসাদ মো: মাহফুজুল ইসলাম। মহামহিম রাজাকে কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশের একটি চৌকশ নারী টিম সুসজ্জিতভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। বিভিন্ন স্তরের পুলিশি নিরাপত্তা বলয়ে মহামহিম রাজা প্রস্তাবিত ভুটানিজ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন করেন।

অত:পর সড়কপথে ভূটানের মহামহিম রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুক সোনাহাট স্থলবন্দরে পোছেন ও বিজিবির গার্ড অব অনার গ্রহন করেন। সোনাহাট স্থল বন্দরে অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ইমিগ্রেশন পুলিশ টিম মহামহিম রাজা ও তার সফরসঙ্গীদের ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। মহামহিম রাজার কুড়িগ্রাম সফরে বিভিন্ন পর্যায়ে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মাননীয় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, সংসদ সদস্য কুড়িগ্রাম-২ ডা: হামিদুল হক খন্দকার, সংসদ সদস্য কুড়িগ্রাম-৪ বিপ্লব হাসান পলাশ, বেজা’র চেয়ারম্যান শেখ ইউসুফ হারুন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক নাফিউল হাসান, মেয়র কাজিউল ইসলাম সহ অনেক সম্মানিত অতিথি। মহামহিম রাজার সকল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ সাইদুল আরীফ, পুলিশ সুপার আল আসাদ মোঃ মাহফুজুল ইসলাম।

কুড়িগ্রামে প্রথম কোন বিদেশী রাষ্ট্র প্রধানের এই সফরে জেলা পুলিশ ছিল সর্বোচ্চ সতর্ক, কাঠালবাড়ি থেকে সোনাহাট পর্যন্ত নিয়োজিত করেছিল সহস্রাধিক পুলিশ, ভেন্যুসমূহে ছিল বিভিন্ন স্তরের পুলিশী নিরাপত্তা।

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের নির্ধারিত স্থান থেকে ধরলার দূরত্ব প্রায় ৫০০ মিটার, কুড়িগ্রাম শহর এক কিলোমিটার, রেলওয়ে স্টেশন তিন কিলোমিটার, সোনাহাট স্থলবন্দর (ভারতের আসামের সঙ্গে যুক্ত) ৪৪ কিলোমিটার, চিলমারী নৌ-বন্দর ৩৪ কিলোমিটার রংপুর নগরী ৫২ কিলোমিটার ও লালমনিরহাট বিমানবন্দর ৩১ কিলোমিটার। অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশপথের ভালো যোগাযোগ আছে। তবে লালমনিরহাট বিমানবন্দরটি এখন চালু নেই।

কুড়িগ্রামের স্থানীয়রা মনে করছে, নদ-নদী ও চরাঞ্চল অধ্যুষিত এই জেলায় কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাসহ শিল্পায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। কুড়িগ্রামে ভুটানি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল আন্তর্জাতিক গেটওয়ে হিসেবে বিবেচিত হবে এবং এটি আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। জেলার সার্বিক চিত্র বদলে যাবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় কুড়িগ্রামের অপার সম্ভাবনা ও ব্যাপক কর্মসৃজনের দ্বার উন্মোচনের এই পর্যায়ে ভুটানের রাজার এই সফর কুড়িগ্রামের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্য বহন করে। টেকসই উন্নয়ন ও নিরাপত্তায় জেলা পুলিশ মহামহিমের এই সফরকে অত্যন্ত অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button