slider

ভিক্ষুকের উপর শারীরিক আঘাত ও লাঞ্ছিত প্রতিবাদে মার্মা সম্প্রদায়ের মানববন্ধন

লোঙা খুমি,রুমা (বান্দরবান): রুমা উপজেলায় রুমা দেব বৌদ্ধ বিহারের পরিচালনা কমিটি ও জায়গায় সংক্রান্ত নিয়ে অদ্যবধি বিরোধ ছিল। এই বিরোধ গত ৬এপ্রিল ২০২২ আনুমানিক দুপুর ১১টা‌ দিকে বিহারের সৌন্দর্য বাড়াতে রং করা, গেইটে নাম ফলক লেখাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক হস্তক্ষেপের বড়ুয়া ও মার্মা জনগোষ্ঠীর উভয় পক্ষের আগামী রবিবারের মিমাংসার কথা ছিল। বেলা গড়তে উভয় পক্ষেই কথা কাটাকাটি মাধ্যমে হাতাহাতিতে জরিয়ে যায় পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেওয়া হয়। মার্মা জনগোষ্ঠীদের দাবি পুলিশ প্রশাসন উপস্থিতি তে আমাদের ভিক্ষু উপর হামলা করেছে বলে বড়ুয়া সম্প্রদায় উপর দাবি তুলে । বিহারাধ্যক্ষ সিনিয়র ভিক্ষু উঃ চাইন্দাসারার ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (৭এপ্রিল ২০২২) রুমা বাজারে এক বিশাল মৌন মিছিল এবং মানববন্ধন করেছে রুমায় সংখ্যাগুরু মার্মা সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা।
রুমা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে বিহারের ভিক্ষু ও শ্রমণদের পাশাপাশি দুর্গম বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজারের অধিক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মার্মা জনগোষ্ঠীর এ মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন ।
রুমা মার্মা ওয়েলফেয়ার সাবেক সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক শৈহ্লাচিং মার্মা সঞ্চালনায় মানববন্ধনের বক্তব্য রাখেন, রুইবিঅং মার্মা, উহ্লামং মার্মা,চাশৈহ্লা মার্মা (আওয়ামী লীগ নেতা), উথোওয়াচিং মার্মা ,উমেসিং মার্মা প্রমূখ। বক্তারা বলেন, মার্মা আর বড়ুয়া সম্প্রদায় একই বুদ্ধ ধর্মের বিশ্বাসী হলেও বড়ুয়া সম্প্রদায় বুদ্ধ ধর্মের নামে কলংক। এরা নিজেদের গুরু বুদ্ধ ভিক্ষুকের উপর হামলায় প্রমান করে তাদের সাথে মার্মাদের বিশ্বাস এক নয়। এরা দুস্কৃতিকারী জনগোষ্ঠীর । বড়ুয়া সম্প্রদায়ের দোকান থেকে পন্য ক্রয়/বিক্রয় আজ থেকে বর্জন করতে হবে। এরা পন্য মধ্যে বিষক্রিয়া ওষুধ মিশিয়ে মার্মা জনগোষ্ঠীর উপর প্রতিশোধ নিবে। কেউ পন্য ক্রয় করে প্রমান মিললে সামাজিক ভাবে বিচ্যুতি সহ ক্যায়াং অংশগ্রহণ মূলক থেকে গ্রহণ করা হবে না। আরো বলেন, পুলিশ প্রশাসন উপস্থিতিতে ভিক্ষু উপর হামলা করেছে তাতে নিঃসন্দেহে প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনা বলে মন্তব্য করেন। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে হামলা কারি অঞ্জন বড়ুয়া,রাখাল বড়ুয়া,আরমান বড়ুয়া, ছোটন,নয়ন,মিন্টু বড়ুয়াদের গ্রেপ্তার করতে আল্টিমেটাম দিয়েছে পুলিশ প্রশাসনকে। গ্রেপ্তার করা না হলে বিক্ষোভ মিছিল সহ হরতাল মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছেন মানববন্ধনের বক্তারা। একই সাথে শুধু বড়ুয়া সম্প্রদায়দের নিরাপত্তা দিয়ে বিহারে অবস্থানরত ভিক্ষুদের নিরাপত্তা সহ মার্মাদেরও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। গ্রেপ্তার বিষয়ে রুমা থানা অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক বলেন কোন অভিযোগ বা মামলা না হওয়ায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারিনা। অভিযোগ,মামলা হলে সেটা অন্য বিষয় বলে জানান।
আহত ভিক্ষুকে রুমা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুরুতর অবস্থায় নিয়ে বেশি আহত হওয়ায় বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে‌ বলে জানান।
মানববন্ধনের বক্তারা বলেন, মার্মা সম্প্রদায়ের দুঃসময়ের তথা ক্রান্তি লগ্নের মার্মা জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিনিধি হিসেবে উহ্লাচিং মার্মা (চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ) ও ২নং সদর ইউপি চেয়ারম্যান শৈমং মার্মাকে কাছে পাইনা, কোন ভুমিকা গ্রহণ করতেও দেখা যায়নি ! তাই মার্মা সমাজ হতাশ সাথে তাদের বয়কট করা সময়ের দাবি মাত্র। এইদিকে বুদ্ধ বিহার বিরোধ ও হামলা বিষয়ে এই প্রতিবেদককে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উদ্দিয়মান বড়ুয়া যুবক বলেন, বিহার প্রতিষ্ঠিত কালীন মংসিগ্য মার্মা,উথোওয়াইচি মার্মা, পাইহ্লাঅং মার্মা (মৃত) মেমং চৌধুরী এই চারজন মুরব্বি অবদান অদম্য রয়েছে। তাই আমরা ওদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। আমরা সংখ্যাই কম প্রতিনিধি বিহীন জনগোষ্ঠীর তাই এক প্রকার এতিম মতো এভাবে জর্জরিত কন্ঠে বলেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button