অপরাধউপমহাদেশ

ভালোবেসে বিয়ের ‘অপরাধে’ মুসলিম যুবতীকে পুড়িয়ে হত্যা

ভিন্ন গোত্র বা ভিন্ন ধর্মের বিয়ে নিয়ে পরিবার বা সমাজে হেয় হওয়ার ঘটনা ভারতে নতুন কিছু নয়।
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে ২১ বছর বয়সী এক মুসলিম যুবতীকে তার নিজের পরিবারই পুড়িয়ে মেরে ফেলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটিকে মেরে ফেলার কারণ, সে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে একটি দলিত ছেলেকে বিয়ে করেছিল।
কয়েক মাস আগে বাড়ি থেকে পালিয়ে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করার পরে ওই দম্পতি শনিবার গ্রামে ফিরে আসে। ওই যুবতী গর্ভবতী হয়ে পড়েছিল।
পুলিশ বলছে, গর্ভবতী অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসতেই ওই যুবতীর মা, ভাই, বোনেরা তাকে মারধর শুরু করে। কয়েকবার ছুরিকাঘাত করে তাকে আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
বিজয়পুরা জেলায় একই গ্রামের বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী বানু বেগম আর ২৪ বছর বয়সী দলিত যুবক সায়াবান্না শরণাপ্পার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।
বিষয়টা জানতে পেরে দুই পরিবারই আপত্তি তোলে।
বানুর পরিবার সায়াবান্নাকে মারধর করেছিল, এমনকি পুলিশের কাছে সায়াবান্নার বিরুদ্ধে নাবালিকাকে ফুঁসলানোর অভিযোগও দায়ের করে বানুর পরিবার। তবে পুলিশ দুই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মধ্যে মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে মাথা গলাতে চায়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে যে পুলিশী ঝামেলা মেটার পরই ২৪শে জানুয়ারি বাড়ি থেকে পালিয়ে বানু এবং সায়াবান্না গোয়ায় গিয়ে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করে।
গত শনিবার নিজের গর্ভবতী হওয়ার খুশির খবর দিতে স্বামী সায়াবান্নাকে নিয়ে বাড়ি ফিরেছিল বানু বেগম।
দুই পরিবারের কর্তারা এই ঘটনা মেনে নিতে পারেননি।
বানুর পরিবারের লোকজনরা নিজেদের মেয়ে আর জামাই – দুজনকেই মারধর শুরু করেন।
কোনোমতে ছাড়া পেয়ে সায়াবান্না পুলিশের কাছে খবর দেন। পুরো ঘটনা শুনে থানা থেকে দশ মিনিটের মধ্যেই পুলিশ পৌঁছায়।
কিন্তু ততক্ষণে বানুকে বেশ কয়েকবার ছুরিকাঘাতের পরে জ্বালিয়ে দিয়েছিল পরিবার।
বিজয়পুরার সিনিয়র পুলিশ সুপারিন্টেডেন্ট কুলদীপ কুমার জৈন বিবিসিকে জানিয়েছেন, “বানুর পরিবারই তাকে আগুনে পুড়িয়ে মেরে ফেলেছে। তার মা, ভাই আর বোন এবং সায়াবান্নার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছি আমরা।”
সায়াবান্না স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলেছেন যে তিনি প্রতিবেশীদের কাছে স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য সাহায্য চেয়েছিলেন। কেউ এগিয়ে তো আসেইনি, উল্টে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল সবাই। বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button