
ভারতের বিজেপিশাসিত উত্তর প্রদেশে এনকাউন্টারের নামে দলিত ও মুসলিমদের পুলিশ হত্যা করছে বলে অভিযোগ করেছে ‘রিহাই মঞ্চ’ নামে একটি সামাজিক সংস্থা। সংগঠনটির মুখপাত্র অনিল যাদবের নামে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ওই অভিযোগ করা হয়েছে।
উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগি আদিত্যনাথ সরকারের দশ মাসের শাসনে এক হাজার ১৪২টি পুলিশি এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে। রিহাই মঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যোগি সরকারের শাসনামলে গোটা রাজ্য দলিত, অনগ্রসর ও মুসলিমদের বধ্যভূমিতে পরিণত হয়েছে। এ ব্যাপারে আন্দোলনরত সব সংগঠনকে নিয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি লখনৌতে এক সম্মেলন করা হবে।
রিহাই মঞ্চের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশে যোগি আদিত্যনাথ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে সাহরানপুর থেকে বালিয়া পর্যন্ত দলিতদের নির্যাতনের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে এবং অন্য দিকে ক্ষমতার মাধ্যমে মুসলিমদের ওপরে আক্রমণ করা হচ্ছে, কাসগঞ্জের ঘটনা তার উদাহরণ। মানবাধিকার কমিশনের নোটিশকে উপেক্ষা করে রাজ্যে দলিত, অন্য অনগ্রসর শ্রেণী ও মুসলিমদের এনকাউন্টারের নামে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হচ্ছে।
‘রিহাই মঞ্চ’ হরিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাশ্মিরি ছাত্রদের ওপরে হামলার নিন্দা করে বলেছে, বিজেপিশাসিত রাজ্যে কেউই নিরাপদ নয়।
রিহাই মঞ্চের মুখপাত্র অনিল যাদব বলেছেন, ‘ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের ৬৯ বছর পার হয়ে গেলেও দেশের জনসংখ্যার এক বড় অংশকে কেবল নাগরিক হিসেবে মেনে নিতেই অস্বীকার করা হচ্ছে না বরং তাদের মানুষের মর্যাদাও দেয়া হচ্ছে না। যদিও ভারতীয় সংবিধানের প্রস্তাবনাতেই সবার জন্য ন্যায়বিচারের কথা বলা হয়েছে। সংবিধান প্রণেতাদের স্বপ্নও ছিল ভারতের প্রত্যেক নাগরিকের কাছে যাতে ন্যায়বিচার পৌঁছায়। কিন্তু আজ দলিত ও অনগ্রসরদের ওপরে আক্রমণের ঘটনা বাড়ছে। মুসলিমদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সহিংসজনতা তাদের পরিচিতির ভিত্তিতে পিটিয়ে হত্যা করছে। যারা দলিত নির্যাতন ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কথা বলছে তাদের দেশদ্রোহী অভিহিত করে কারাগারে নিক্ষেপ করছে।’
‘ভীম আর্মি’র নেতা চন্দ্র শেখরের বিরুদ্ধে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্ত করে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন অনিল যাদব।
এ প্রসঙ্গে গতকাল রোববার পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দী মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস বলেন, ‘২০১৪ সালের পর থেকে গোটা দেশজুড়ে মুহাম্মদ আখলাক থেকে শুরু করে দলিত ও মুসলিমদের ওপরে টার্গেট করে আক্রমণ করা হচ্ছে। কখনো তা এনকাউন্টারের নামে, কখনো তা গরুর গোশতের নামে, কখনো বা গরু চোর বলে অভিহিত করে আক্রমণ চালিয়ে হত্যা করা হচ্ছে।
এসবের পেছনে রাষ্ট্রের পরিকল্পিত মদদ রয়েছে। এটা ওদের কোনো গোপন এজেন্ডা নয়। আরএসএসের ঘোষণা পড়লে, ওদের যে দর্শন ‘উই অর আওয়ার নেশনহুড ডিফাইন্ড’ বা ‘বাঞ্চ অব থটস’ এগুলো পড়লে স্পষ্ট হবে পরিকল্পিতভাবে এসব করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘উত্তর প্রদেশে যোগি আদিত্যনাথ সরকার রেকর্ড পরিমাণে এনকাউন্টার করেছে। গোটা দেশজুড়ে মানুষ এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ‘ভীম আর্মি’র নেতা চন্দ্র শেখরকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে গত বছর থেকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। ওদের পরাজয় ও শুভশক্তির জয় নিশ্চিত বলেও পশ্চিমবঙ্গের ‘বন্দী মুক্তি কমিটি’র সাধারণ সম্পাদক ছোটন দাস বলেন।



