আজ (সোমবার) গভর্নর রাম নাইক বিধানমণ্ডলের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে ওঠামাত্রই বিরোধী সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস এবং বহুজন সমাজ পার্টির বিধায়করা ব্যাপক হট্টগোল শুরু করে তাকে বাধা দেন। বিরোধী সদস্যরা এ সময় ওয়েলে নেমে পোস্টার এবং ব্যানার হাতে নিয়ে স্লোগান দিয়ে চিৎকার করাসহ বাঁশি বাজিয়ে তীব্র গোলযোগ সৃষ্টি করেন। ব্যাপক বিশৃঙ্খলার মধ্যে বিধানসভার অধিবেশন আগামীকাল (মঙ্গলবার) বেলা ১১ টা পর্যন্ত মুলতুবি করে দেয়া হয়।
বিরোধীদলীয় সদস্যরা আজ গভর্নরের উদ্দেশ্যে কাগজপত্র দলা পাকিয়ে বল তৈরি করে ছুঁড়তে থাকেন। এ সময় গভর্নরের নিরাপত্তারক্ষীরা রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমায় নথিপত্র রাখার ফাইল দিয়ে ওই বলকে বারবার প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। মুহূর্তের মধ্যে বিধানসভা কার্যত টেনিস কোর্টে পরিণত হয়ে যায়।
বিধানসভার স্পিকার হৃদয় নারায়ণ দীক্ষিত গভর্নরের গোটা ভাষণ শোনার জন্য এর আগে আবেদন জানালেও বিরোধী সদস্যরা তাতে কর্ণপাত করেননি।
আজ বিধানসভায় গোলযোগের সময় রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও সপা প্রধান অখিলেশ যাদব উপস্থিত ছিলেন। বিধানসভার কাজকর্ম আজ টেলিভিশনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। গভর্নর রাম নাইক অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, গোটা উত্তর প্রদেশ বিষয়টি দেখছে। বিধানসভায় বিধায়কদের এ রকম আচরণ ঠিক নয়।
বিরোধী সদস্যরা রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে স্লোগান দিয়ে ব্যাপক গোলযোগ সৃষ্টি করেন। উত্তর প্রদেশ সরকারের মন্ত্রী সিদ্ধার্থ নাথ সিং বলেন, গোটা ঘটনায় অখিলেশ যাদব (সাবেক মুখ্যমন্ত্রী) নিশ্চুপ হয়ে ছিলেন। বিরোধীরা বাঁশি বাজিয়ে গভর্নরের উদ্দেশে নথিপত্র ছুঁড়েছেন, এতেই তাদের মানসিকতা স্পষ্ট হয়েছে।
যোগী আদিত্যনাথ সরকার রাজ্যে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে রাজ্যে একনাগাড়ে অপরাধ এবং সহিংস ঘটনা বেড়ে চলেছে। কিন্তু বিজেপি নির্বাচনি প্রচারের সময় অপরাধমুক্ত রাজ্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যোগী সরকারের কাছে মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সাহারানপুরে সহিংসতার পাশাপাশি গত ৫০ দিনে বেশ কয়েকবার এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যেখানে বিজেপি বিধায়ক এবং এমপিই আইনশৃঙ্খলার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া আগ্রাতে কিছু হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের জন্য আইনশৃঙ্খলা সমস্যার মুখে পড়েছে।
রাষ্ট্রীয় লোকদলের রাজ্য সভাপতি রশিদ মাসুদ বলেন, যোগী সরকারের আমলে মাফিয়ারাজ কায়েম হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক এবং সংসদ সদস্যরাই এখন আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সুত্র: পার্স টুডে




