বড়াইগ্রামে নিরুদ্দেশের দুই বছর পর প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অপহরণ মামলা

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের বড়াইগ্রামে দুই বছর আগে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া মাদকসেবীকে অপহরণের মিথ্যা মামলা দিয়ে কৃষক পরিবারকে হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ছয় দিন আগে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দায়ের করা একটি মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই এ মামলা করা হয়েছে বলে দাবি ভূক্তভোগীদের।
জানা যায়, উপজেলার তিরাইল গ্রামের আবুল কালামের ছেলে তারেক রহমানকে মাদকসেবন ও নানা অপকর্ম থেকে ফেরাতে না পেরে তার স্ত্রী রুমা খাতুন বছর তিনেক আগে তালাক দিয়ে বাবার বাড়ি চলে যায়। এর কয়েক মাস পর তারেক প্রতিবেশী শাহীনের বাইসাইকেল চুরি করে। বিষয়টি প্রকাশ হলে সে পালিয়ে যায়। এরপর সে আর এলাকায় ফেরেনি। এ ঘটনার দুই বছর পর হঠাৎ তারেকের মা মনোয়ারা বেওয়া গত ২৬ সেপ্টেম্বর আদালতে বাদী হয়ে প্রতিবেশী আয়নাল হক, তার স্ত্রী ও চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে তারেককে অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হয়রানী করতেই এ সাজানো মামলা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মামলার বাদী মনোয়ারা বেওয়ার বাড়িতে এবং তার কর্মস্থল বনপাড়া ফাইভ স্টার হোটেলে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তারেকের ফুফু আনেছা খাতুন ও দাদা জামাত আলী জানান, তারেক নেশাগ্রস্থ ছিলো। দেড়-দুই বছর আগে সে নিজেই নিরুদ্দেশ হয়। তাকে কেউ অপহরণ করেছে এমন কথা কখনও শুনিনি। এ সময় সেখানে উপস্থিত আরো অন্তত ১৫ জন নারী-পুরুষ ওই একই কথা বলেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তাক আহমেদ জানান, মাদকসেবনে তারেকের মাথায় সমস্যা দেখা দেয় এবং একটি চুরির ঘটনায় সে নিজেই বাড়ি থেকে চলে যায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বড়াইগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক আকরামুজ্জামান বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তবে নির্দোষ কেউ যেন হয়রানীর শিকার না হয় তা খেয়াল রাখা হবে।



