ব্রিটেনে ভারতীয়দের করোনায় মৃতের সংখ্যা ঊর্ধ্বমুখী, আতঙ্কে প্রবাসীরা
ভারতে করোনায় মৃতের সংখ্যা হাজারের নীচে। কিন্তু ব্রিটেনে বসবাসকারী ভারতীয়দের মৃত্যু কি তার চেয়েও বেশি? সরকারি রিপোর্টে তার কোনো স্পষ্ট উল্লেখ এখনো পর্যন্ত নেই।
কিন্তু ব্রিটেনের বিভিন্ন শ্মশান, মন্দির ও গুরুদ্বার সূত্রে যে তথ্য উঠে আসছে তা শিউরে ওঠার মতো। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য ওই সব জায়গাগুলির সঙ্গে ইতোমধ্যেই যোগাযোগ করেছে বহু ভারতীয় পরিবার। তাই অনেকে আশঙ্কা করছেন, বাস্তবে সংখ্যাটা ভারতে মৃতের সংখ্যাকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।
করোনার তাণ্ডবে ব্রিটেনে মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। কিন্তু সরকারি ওই হিসাবের মধ্যে কিছুটা ফাঁক রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, এই সময় অনেকেই রোগে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে মারা গিয়েছেন। কারো মৃত্যু হয়েছে বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
এছাড়াও, এখনো পর্যন্ত অনেকের মৃত্যুই সরকারিভাবে নথিবদ্ধ হয়নি। এগুলি এখনো পর্যন্ত সরকারি হিসাবের সঙ্গে যোগ করা হয়নি। তাই অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ওই সংখ্যাটা যোগ করা হলে সরকারিভাবে ব্রিটেনে মৃতের সংখ্যাটা ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত ব্রিটেনে ভারতীয়দের মৃত্যু নিয়ে সরকারিভাবে রিপোর্ট না থাকলেও, ভিন্ন ইঙ্গিত মিলতে শুরু করেছে। ব্রিটেনের বহু শ্মশান, মন্দির ও গুরুদ্বারে ইতিমধ্যেই বহু ভারতীয় পরিবারের তরফে যোগাযোগ করা হয়েছে। যোগাযোগ করা পুরোহিতের সঙ্গেও। আর তাতে আশঙ্কা আরো বাড়ছে।
লন্ডনের ব্রেন্ট, ওয়েম্বলি, হ্যারো, ইলিংয়ের মতো এলাকায় ভারতীয়দের বাস বেশি। আর ওই সব এলাকাতেই করোনা সংক্রমণও সবচেয়ে বেশি। ব্রেন্টে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেখানকার নর্থউইক পার্ক হাসপাতালের ছবিটা ভয়াবহ আকার নিয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে কার্যত ভিড় করেছেন রোগীরা। মৃতের সংখ্যাও সেখানে দিন দিন বাড়ছে।
এর মধ্যেই নতুন আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন, ব্রিটিশ মেডিক্যালস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান চাদ নাগপাল। তিনি দাবি করেছেন, ‘‘ইন্টেনসিভ কেয়ারে থাকা রোগীদের মধ্যে ৪০ শতাংশই সংখ্যালঘু। তাদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গ ছাড়াও রয়েছেন এশীয়রা। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক ভারতীয়ও রয়েছেন।’’
ব্রিটেনে ভারতীয়দের সংখ্যা ১৫ লাখ। সংখ্যার দিক থেকে তারা ব্রিটেনে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। প্রথম স্থানে রয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গরা। তাদের সংখ্যা ১৯ লক্ষ। এছাড়াও ১০ লাখের মতো পাকিস্তানি ও ৫ লাখের কাছাকাছি বাংলাদেশিও রয়েছেন ব্রিটেনে। আনন্দবাজার।




