ভারতের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানালেন দেশটির নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. অমর্ত্য সেন।
অমর্ত্য সেন বলেছেন, ‘ভারতীয় হিসেবে আমি গর্বিত নই। কাশ্মীরে গণতন্ত্র ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে সমাধান মিলবে বলে আমার মনে হয় না।’
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে এক সাক্ষাৎকারে সোমবার অমর্ত্য সেন বলেন, ‘সরকারের সিদ্ধান্তের মধ্যে বহুস্তরে ফাঁকি রয়েছে। গণতান্ত্রিক বিশ্বে ভারতের অনেক অর্জন থাকলেও এই সিদ্ধান্তের কারণে আমি গর্বিত নই। অপশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে প্রথম গণতন্ত্রকে বরণ করা দেশ হলেও ভারত এই সিদ্ধান্তের কারণে চরম ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে।’
বিশেষ মযার্দা বাতিলের পর থেকে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে কাশ্মীরে। পৃথিবী থেকে যেন এক রকম বিচ্ছিন্ন ভূখণ্ড।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিশেষ মর্যাদা বাতিলে কাশ্মীরের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পুরো বিশ্বে বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের সম্মান ম্লান হয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
কাশ্মীরে জমি কেনা প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেন বলেন, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার কাশ্মীরের বাসিন্দাদের। এ ছাড়া জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেফতার করায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন অর্মত্য সেন।
অমর্ত্য সেন বলেন, ‘অতীতে যেসব নেতা সরকার গঠন করেছেন বা দেশটিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এমন নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার নেতাকে যদি আপনি অবরুদ্ধ করে রাখেন, জেলে পুরে রাখেন, তাঁদের কণ্ঠস্বর না শোনেন, তাহলে সেখানে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার পাবেন বলে আমার মনে হয় না।’
কাশ্মীর নিয়ে সিদ্ধান্তের পর সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে জোরদার করেছে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার। ড. সেন বলেন, ‘এটা ধ্রুপদী ঔপনিবেশিক যুক্তি। ব্রিটিশরা এভাবেই ২০০ বছর দেশ শাসন করেছে।’
গত ৫ আগস্ট ৩৭০ ধারা বাতিলের দিন তিনেক আগে থেকেই কাশ্মীরে ইন্টারনেট এবং ফোন পরিষেবা বন্ধ করে দেয়া হয়।
এ ছাড়া গোটা রাজ্যজুড়ে ছিল কারফিউ, স্তব্ধ হয়ে পড়ে থাকে সেখানকার জনজীবন। সর্বত্র ভারতীয় সেনাদের টহল। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের গুলিতে অনেকে নিহত হন বলেও জানা গেছে।




