slider

বোয়ালমারীতে মাটি টানা ট্রলি বন্ধের দাবিতে গ্রামবাসীর অভিযোগ

প্রশাসন নীরব

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিভিন্ন স্থানের ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে স্থানীয় ইটভাটায় বিক্রির হিড়িক চলছে। আর এ মাটি টানার কাজে নিয়োজিত ট্রলির বেপরোয়া চলাচলের কারণে যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে তেমনি গ্রামীণ সড়ক মহাসড়কের ক্ষতি হচ্ছে। ট্রলিতে মাটি নেওয়ার সময় সড়ক মহাসড়কে মাটি পড়ে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। সামনে বৃষ্টি মৌসুমে এসব সড়ক মহাসড়কে দূর্ঘটনার সম্ভবনাও রয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন বরাবরে বিভিন্ন স্থানের ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ করলেও মিলছে না কোন প্রতিকার। তবে এ ব্যাপারে ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান অব্যাহত রেখেছেন বলে জানিয়েছেন ইউএনও মোশারেফ হোসাইন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার চতুল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাইখীর চৌরাস্তা বাজার হতে শুকদেবনগর পর্যন্ত রাস্তাটি জনগণের যাতায়াতের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ওই রাস্তাটির আশু সংস্কার প্রয়োজন। গত কয়েকদিন ধরে ওই রাস্তা দিয়ে মাটি টানা ট্রলি চলাচলের কারণে রাস্তাটি একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব মাটির ট্রলিগুলো মাঝকান্দি—বোয়ালমারী—ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে বিভিন্ন ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। ট্রলিগুলো চলাচলের কারণে সৃষ্ট ধুলাবালির কারণে রাস্তার দুই পাশের ঘরবাড়ি ও বাইখীর চৌরাস্তা বাজারের দোকানপাট চেনাই যাচ্ছে না। ট্রলি—মাটির ধুলিকনায় এসব সাদা হয়ে গেছে। এ কারণে ওই এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণ এবং বাইখীর চৌরাস্তার ব্যবসায়ীগণ স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এমনকি রাস্তাটিও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ওই সড়ক দ্বারা দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাসহ শতশত লোকজন যাতায়াত করেন। জনস্বার্থে ওই রাস্তাটি সংরক্ষণ ও ভাটায় মাটি টানা ট্রলি চলাচলে নিষেধাজ্ঞার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষে ৮০ জন ব্যক্তি বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারেফ হোসাইনের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে অন্যতম কয়েকজন হলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার মো. সামচুল হক, ইউনুচ শেখ, সামাদ শেখ, সাজ্জাদ মোল্যা ও নাজমুল ফকির প্রমুখ। অপরদিকে বোয়ালমারী পৌরসভার সীমান্তবর্তী চতুল ইউনিয়নের বিল দাদুড়িয়ায় চলছে কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা। জমির মালিক মো. কাশেম মোল্যা তার জমি থেকে অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করে মাটি ব্যবসায়ী মো. সাহেব আলীর কাছে ৬ লাখ টাকায় মাটি বিক্রি বলে জানা যায়। এতে পাশের ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভবনা রয়েছে। ক্ষতি সাধিত হবে বলে লিখিত অভিযোগে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন। এ কারণে কলারণ জুট মিলের পশ্চিম পাশের জমির মালিকরা গত ২০ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের পরেও উপজেলা প্রশাসন ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন চতুল ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য যুবলীগ নেতা মো. ওহিদুজ্জামান।

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বুধবার (১ মার্চ) দুপুরে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশারেফ হোসাইন বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে অভিযোগে যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে সেটা সঠিক নয়। প্রত্যেক এলাকায় গ্রুপিং থাকে এক গ্রুপ এটা হয়তো করেছে। আর ফসলি জমি থেকে ট্রলিতে মাটি টানার বিষয়টি নিয়ে অভিযান অব্যহত রয়েছে। কয়েকদিন আগে কয়েকটি ট্রলি গাড়ি ধরে এনে সংশ্লিষ্টদের জরিমানার আওতায় আনা হয়েছিলো। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কোন ভাবেই ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না। যারা এটা করবে তাদেরকেই জরিমানা করে এগুলো বন্ধ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button