
নিজস্ব প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ঐতিহ্যবাহী সাগের শাহ মেলার মাঠ প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধ নিলাম ডেকে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে ।
৫ শতাধিক বছরের পুরাতন এই মেলা এবং শাহ সাহেবের ওরোশ গত ৫আগষ্টের পট পরিবর্তনের পর স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের চরম দ্বন্দ্বের কারণে এক বছর বন্ধ থাকে। এই বছর দুই গ্রুপ একত্রিত হয়ে প্রশাসন থেকে অনুমতি সংগ্রহে সমর্থ হয়। গত ২৪ মার্চ ২০২৬ খ্রি: তারিখে পুলিশ সুপার, ডিএসবি, ফরিদপুর স্বাক্ষরিত এক পত্রে কতিপয় শর্ত মেনে নেবার প্রতিশ্রুতিতে মেলার অনুমতি প্রদান করা হয়। ২৫ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মেলা এবং ওরশের অনুমতি পেলেও খোদ প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রাক্তন ও বর্তমান দুই চেয়ারম্যান অন্যান্যদের সহযোগিতায় নিজেরাই নিলাম ডেকে মেলার মাঠ বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিনে নিয়ম নীতি ও দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা জানিয়ে দুই চেয়ারম্যান এবং তাদের সহযোগিরা এই কাজ করেছে বলে জানা গেছে। ফলে এ বিষয় নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মেলা পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও রূপাপাত ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আজিজার রহমান মোল্যা বলেন, প্রায় ৫শ বছরেরও পূর্বে থেকে মেলার শুরু। প্রথমে দেওয়ান শাগির শাহ’র পবিত্র উরশ অনুষ্ঠিত হত। পর্যায়ক্রমে তা মেলায় রূপ নেয়। বর্তমানে মেলা এ অঞ্চলের একটি বাৎসরিক উৎসব। গত বছর ঝামেলার কারণে মেলা হয়নি। তাই এ বছর আগে থেকেই এলাকাবাসি মিলে একটি কমিটি করা হয়েছে। যেখানে সবদলের সবমতের লোকজন আছে। আমাকে আহবায়ক হিসেবে রাখা হয়েছে তবে মূল সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করছেন শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ। মেলার মাঠ ডাকের বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, মেলায় অনেক ধরনের খরচ আছে সেগুলো মেটাতে হয়। প্রশাসনের অনুমতি সম্পর্কে বলেন, আজ (মঙ্গলবার) অফিস খুলেছে এবং আজ অনুমতি পাওয়া যাবে। আমরা সব প্রস্তুতি শেষ করে রাখছি।
শেখর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বলেন, দেওয়ান শাগির শাহর মেলা আমাদের এলাকার ঐতিহ্য। আবাহমান বাংলার সংস্কৃতির ধারক বাহক এ মেলা। তাই আমি মেলা কমিটিকে সহযোগিতা করছি যাতে এবার মেলাটা হয়। সমন্বয়ক কথাটা ঠিক না।
নিলামের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম রকিবুল হাসান বলেন, “মেলার মাঠ অবৈধভাবে নিলামে ডেকে বিক্রি করার বিষয়টা নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, ‘মেলায় জুয়াসহ কোন অনৈতিক কাজ হলে সাথে সাথে মেলা বন্ধ করে দেয়া হবে।



