
পতাকা ডেস্ক: তিরিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে তার মুল লক্ষ্যই ছিলো বৈষম্যহীন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা। জাতির দুর্ভাগ্য আজ যখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি যৌক্তিক বিষয় বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি তুলেছে ঠিক তখনই প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের রাজাকার, মুক্তিযোদ্ধার ধুয়া তুলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে বিতর্কিত করার প্রয়াস চালিয়েছেন। বৈষম্যমূলক কোটা ব্যবস্থা রাষ্ট্রে বহাল থাকতে পারেনা বলে মন্তব্য করেন এবি পার্টি লইয়ার্সের আহবায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল।
আজ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকৃত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে এবি পার্টি লইয়ার্স।
এবি পার্টি লইয়ার্সের দফতর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী নাসের খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মুল বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম আহবায়ক ও এবি পার্টি লইয়ার্সের আহবায়ক সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন এবি পার্টি লইয়ার্সের সদস্যসচিব ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভুইয়া ও যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি।
অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার মুল লক্ষ্যই ছিলো বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন। দেশের সাধারণ শিক্ষার্থীরা একটি যৌক্তিক আন্দোলন করছে। যেখানে তারা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চলছিলো। অথচ প্রধানমন্ত্রী দেশে আসার পর পরই তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। একটি রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি রাজাকারের সন্তান বা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কাকে চাকরী দিবেন সেটা কিভাবে বলতে পারেন। কোন সভ্য রাষ্ট্রে পিতা বা পুত্রের কারণে কারও চাকরি হতে পারে না। আপনি চাকরি দিবেন দেশের মেধাবী যারা তাদের।
তিনি আরও বলেন, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। এই মামলায় কাউকে গ্রেফতার করা হলে বা হয়রানি করা হলে এবি লইয়ার্স তাদের পাশে থাকবে। বিনা পয়সায় সাধারণ ছাত্রদের সকল সহায়তা এবি লইয়ার্স দিবে ইনশাআল্লাহ।
ব্যারিস্টার যোবায়ের বলেন, ২০১০ সালে আমরা প্রথম কোটা সংস্কারের আন্দোলন শুরু করেছিলাম। ২০১৮ সালে একবার এই আন্দোলন হয়েছে এখন আবার নতুন করে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। প্রতিবারই আমরা দেখেছি সরকার কোটা সংস্কারের এই যৌক্তিক আন্দোলনকে বিভিন্ন ট্যাগ লাগিয়ে ব্যার্থ করার চেষ্টা করেছে। এবারও আমরা দেখলাম সাধারণ ছাত্রদের সরকার রাজাকার ট্যাগ লাগিয়ে এই আন্দোলনকে ভন্ডুল করার চেষ্টা করছে যা অত্যান্ত লজ্জাজনক।
ব্যারিস্টার মিলি বলেন, বৈষম্য বিরোধী এই আন্দোলনে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ লক্ষনীয়। সরকার যেভাবে ছাত্রীদের উপরেও নিপীড়ন চালিয়েছে তা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায়না।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট তারেক আব্দুল্লাহ, উদয় তাসমির, নাহিদ হাসান সহ এবি লইয়ার্সের নেতৃবৃন্দ।




