বেনাপোল পৌর নির্বাচনের গুঞ্জনে এলাকায় বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ

জাহিদ হাসানঃ আসন্ন বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পৌর এলাকায় বিরাজ করছে নির্বাচনী আমেজ। রীতিমত ক্ষমতাসীন সম্ভাব্য মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা স্থানীয়ভাবে জনমত গঠনের লক্ষে গণসংযোগে নিজেদের পক্ষে ঢাক ঢোল পেটানো শুরু করেছেন। অনেকেই ভোটারদের বাড়িতে ঘরোয়া পরিবেশে নির্বাচনি বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রায় হাফ ডজন মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। এছাড়াও রয়েছে বিরোধী দল সহ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ছড়াছড়ি। তবে দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের গ্রুপিং রাজনীতিতে প্রত্যেক নেতাদের রয়েছে নিজস্ব সমার্থিত প্রার্থী।
বেনাপোল পৌর এলাকায় বাহারী রঙ্গিন ব্যানার, পোস্টার সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী আমাজে ছেয়ে ফেলেছে প্রার্থী ও তার সমার্থকেরা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকান্ডে। আসন্ন বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে কাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। এলাকার চায়ের আড্ডা সহ সবখানে এটাই এখন মূখ্য বিষয় আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে কে পাচ্ছেন মনোনয়ন এবং প্রার্থী নিয়েও চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
এলাকায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশিরা ব্যানার,ফেস্টুন টানানোসহ নিজেদের প্রার্থীতা ঘোষণা করছে। এসব প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরাও বসে নেই। তারা নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক সহ নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেয়রের সাথে সাথে কাউন্সিলর পদপ্রার্থীরাও পিছিয়ে নেই প্রচার প্রচরনায়। ইতিমধ্যে ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে যেয়ে তারা তাদের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন।
বেনাপোল পৌর নির্বাচনকে ঘীরে আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কোনও দলের প্রার্থী এখনও মাঠে নামেননি বা নামার সম্ভাবনা আছে এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ২/১জন হেভিওয়েট প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভোটাররা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী যেন একজন সৎ ও যোগ্যপ্রার্থী তাদেরকে উপহার দেন যিনি মেয়র হিসাবে জনগণের জন্য কাজ করবেন। বিগত ১৩ই জানুয়ারী ২০১১ সালে বেনাপোল পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন আশরাফুল আলম লিটন ৫ বছর পর ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি পৌরসভার মেয়াদ শেষ সীমানা জটিলতায় আদালতে মামলা থাকায় আটকে যায় নির্বাচন। ফলে দীর্ঘ ১২ বছর একটানা ক্ষমতায় থেকে যান মেয়র লিটন। এদিকে দলীয় প্রার্থীর বাহিরে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এলাকায় জনগন ও ভোটারদের নিকট দোয়া ও সহযোগীতা কামনা করে প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগ ২ ভাগে বিভক্ত একটি অংশের নেতৃত্বে বর্তমান সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দীন আর এমপি বিরোধী বলয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক পৌর মেয়র আশরাফুল আলম লিটন। দলীয় সকল কর্মসূচি আলাদা ভাবে পালন করে আসছেন এই দুই বলয়ের নেতারা। সেজন্য বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচন কে সামনে রেখে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের কোন্দল আরও প্রকট হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রার্থীদের তালিকায় ছবির বাঁ থেকে আছেন (১) ফারুখ হোসেন উজ্জল-সাবেক ছাত্রলীগ নেতা,সাংগঠনিক সম্পাদক বেনাপোল পৌর আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য (২) বেনাপোল পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক-নাসির উদ্দিন (৩) শার্শা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি-মোঃ অহিদুজ্জামান অহেদ (৪) বিশিষ্ট সি এন্ড এফ এজেন্ট ব্যাবসায়ী-মফিজুর রহমান সজন (৫) বেনাপোল পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর- শাহাবুদ্দিন মন্টু (৬) সাবেক পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-হাবিবুর রহমান হবি। পরবর্তী ধারাবাহিক প্রতিবেদনে থাকবে প্রত্যেক প্রার্থীর নির্বাচনকে ঘিরে নিজস্ব চিন্তাভাবনা সহ বেনাপোলের পৌরবাসির উন্নয়নে তাদের অবদানের অতীত ও ভবিষ্যৎ ।




