বিবিধশিরোনাম

বৃটেনের রানীর পদক পেলেন শতবর্ষী দবিরুল

করোনাভাইরাস মহামারিতে বিপর্যস্ত মানুষের জন্য সাহায্য সংগ্রহ করে আলোচনায় এসেছিলেন বৃটেনের শতবর্ষী বাঙালি দবিরুল ইসলাম চৌধুরী। এবার এ কাজের জন্য তিনি দেশটির রানীর সম্মানে ভূষিত হলেন। মহামারি চলাকালীন তিনি নিজের বাড়ির পাশে পুরো একমাস চক্কর দেন। তার উদ্দেশ্য ছিল মহামারিতে বাংলাদেশ ও বৃটেনসহ আরো অনেক দেশে যেসব মানুষ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাদের জন্য একটি তহবিল গঠন করা। তিনি তার বাগানের ৮০ মিটার পথ ৯৭০ বার চক্কর দিয়েছিলেন। তার এ দৃষ্টান্তের পুরস্কারস্বরূপ তাকে অর্ডার অফ দ্যা বৃটিশ এমপ্যায়ার বা ওবিই পদক দেয়া হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
বৃটেনের সমাজ জীবনে বিশেষ ভূমিকা রাখেন যারা তাদেরকে রানী এলিজাবেথের জন্মদিনে সম্মানিত করার রীতি রয়েছে দেশটিতে। এ সম্মান পেয়ে দবিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবান মনে করছেন।
তিনি বলেন, আমি আমার অন্তরের অন্তস্তল থেকে সবার প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি জানান, দুই সপ্তাহ পূর্বে রানীর দপ্তর থেকে ওবিই পদক প্রাপ্তির চিঠি পেয়ে তিনি বেশ অবাক হয়েছিলেন। এখন বৃটেনের বাঙালি, বয়স্ক এবং অভিবাসীদের পক্ষ থেকে এই পদক গ্রহণ করতে চান তিনি। বলেন, আমরা যখন কোনো একটা ভালো কাজ করি তখন বিশেষ কোনো প্রাপ্তির আশা করি না। তবু এই স্বীকৃতির জন্য আমি খুবই আনন্দিত। এই পদক তার জীবনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে বিশেষ কোনো পরিবর্তন আনবে না বলে জানান তিনি। তবে তিনি চান তার কাজ দেখে অন্যরাও উৎসাহিত হোক।
বিবিসি জানিয়েছে, এ বছরের জুন মাসেই এই সম্মান প্রদানের কথা থাকলেও মহামারি চলায় তা প্রদানে দেরি হয়েছে। এর আগে বৃটেনের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এক ক্যাপ্টেন তার বাড়ির বাগানে হেঁটে স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য অর্থ সাহায্য তুলেছিলেন। সেটিই দবিরুল ইসলামকে অনুপ্রাণিত করে। দবিরুল ইসলাম রমজান মাসে রোজা রেখেই পায়ে হেঁটে যান। এসময় তিনি মোট ৪ লাখ ২০ হাজার পাউন্ড সংগ্রহ করেছিলেন। তার এমন চেষ্টার প্রশংসা করেছেন দেশটির লেবার পার্টির প্রধান স্যার কিয়ার স্টার্মার। তিনি বলেন, দবিরুল ইসলাম যা করেছেন তা আমাদের সবার জন্য প্রেরণার উৎস।
উল্লেখ্য, ১৯২০ সালে সিলেটের দিরাইতে জন্মগ্রহণ করেন দবিরুল ইসলাম চৌধুরী। সে হিসেবে এ বছর তিনি শতবর্ষে পা দিয়েছেন। উচ্চশিক্ষার জন্য ১৯৫৭ সালে বৃটেনে যান তিনি। এরপর সেখানেই স্থায়ীভাবে বাস করতে থাকেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও অর্থ সাহায্য সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button