বিয়ের খরচ না দিতে পারায় শালিকে বিয়ে করলো দুলাভাই

আনোয়ার, স্বরূপকাঠি সংবাদদাতা : বিয়ের চার মাসের মাথায় স্বামির সংসারের ইতি টেনে বাপের বাড়ী চলে যাওয়ায় শালিস বিচারের মাধ্যমে স্ত্রীর ছোট বোনকে বিয়ে করে নিয়ে আসলো সৈকত(১৯) নামে এক স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ডুবি গ্রামে। সৈকত ওই গ্রামের শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে। আর নববধূ উজিরপুর উপজেলার হারতা ইউনিয়নের লাথারকান্দি গ্রামের এক দিনমজুরের মেয়ে। মেয়েটি ওই গ্রামের লাথারকান্দি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। সৈকতের প্রথম স্ত্রী সেচ্ছায় স্বামীর সংসার করতে অপরগতা প্রকাশ করে। এতে স্বামী সৈকতের বাবা মেয়ের বাবার কাছে বিয়ে ভাঙ্গার খরচ দাবি করে। মেয়ের বাবা সে খরচ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারে লাথারকান্দি গ্রামের শালিসদাররা সেই হতভাগ্য পিতার সপ্তম শ্রেনি পড়ুয়া মেয়েকে বর সৈকতের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়। শাহাদাৎ হোসেন ছেলের প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে পুত্রবধূ করে ঘরে নিয়ে আসার পর থেকে এলাকার বেশিরভাগ মানুষ তাদের ধিক্কার জানাচ্ছে।
সরেজমিনে জানাযায়, গেল চার মাস পূর্বে পারিবারিকভাবে ডুবি গ্রামের শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে সৈকতের সাথে লাথারকান্দি গ্রামের দশম শ্রেনির শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়। কিছুদিন পূর্বে বাবার বাড়ীর কথা বলে স্ত্রী বেড়াতে যায়। সেখানে গিয়ে সে স্বামীর সাথে সংসার করতে অপরগতা জানায়। পরে গেল ২২ সৈকতের বাবা ও ভগ্নিপতি পুত্রবধূকে আনতে ছেলের শশুর বাড়ীতে যান। তিনি সেখানে গিয়ে পুত্রবধূকে নিয়ে যাওয়ার কথা বললে তারা অপরগতা প্রকাশ করেন। পরে ছেলের বাবা সেখানে শালিশ বসান। শালিসে ছেলের পিতা শাহাদাৎ হোসেন মেয়ের বাবার কাছে বিয়ে ভাঙ্গার খরচ দাবি করেন। মেয়ের বাবা সে খরচ দিতে অক্ষম হওয়ায় শালিস বিচারে ছেলের পিতা সৈকতের প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে ছেলের বউ করতে চান। শালিসধাররা তাতে রাজি হয়ে ওই হতভাগ্য পিতার সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েটিকে সৈকতের সাথে বিয়ে দেন।
এ ব্যপারে ছেলের পিতা শাহাদাৎ বলেন, সৈকতের স্ত্রী (ছদ্ম নাম তানিয়া)আমার বাড়িতে আসতে অপরাগতা প্রকাশ করে। এসময় আমি উপস্থিত সকলের সামনে ছেলের বিয়ের বাবদ খরচ হওয়া টাকা দাবি করি। আর না হয় ছেলেকে পুনরায় বিয়ে দিয়ে দেয়ার জোড়ালো দাবি জানাই। এসময় মেয়ের বাবা টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অবশেষে আমরা তার ছোট মেয়েকে সৈকতের জন্য পুত্রবধূ করার দাবি তুলি। তখন উপস্থিত শালিসরা তাতে রাজি হয়। পরদিন সকালে শালিশদারদের সিদ্ধান্ত অনুসারে সৈকতের স্ত্রীর ছোট বোনকে বউ করে নিয়ে নেছারাবাদে আসি।
একই জানিয়ে ওই নববধূর বাবা ও মা আরো বলেন, ছেলের বাবার দাবি অনুসারে টাকা দিতে পারলে আমাদের ছোট মেয়েকে বউ করে ওই বাড়ীতে আর পাঠাতাম না। আমরা নিতান্ত গরীব। তাই শালিস বিচারে কথানুযায়ি ছোট মেয়েকে ওই ঘরে দিয়েছি। এটা খুবই লজ্জাজনক।
এ ব্যপারে নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সহিদুল ইসলাম বলেন, শাহাদাৎ এর প্রথম পুত্রবধূ ছেলের ঘর করতে না চাওয়ায় সে সেই পুত্রবধূর ছোট বোনকে গ্রাম্য সরা দিয়ে বউ করে বাড়ীতে আনার পর এক রাত ছিল। পরদিন বিবাহ দিতে না পেরে সে মেয়েটিকে কোথায় যেন পাঠিয়ে দিয়েছে। তবে কাজটা খুব ন্যাক্কারজনক বলে জানান তিনি।
এ ব্যপারে বলদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান জানান, আমি কিছুই জানিনা। বিষয়টি ইউপি সদস্যর কাছে জেনে জানাবো।
এ ব্যপারে ওই শালিসে উপস্থিত থাকা লাথারকান্দি গ্রামের শালিসদার মো: রুহুল মুঠোফোনে জানান, মেয়ের বাবা ও মায়ের সামনে ছেলের বাবা ছেলের বিয়ে ভাঙ্গার খরচ দাবি করেন। অন্যাথায় ছেলে বিয়ে দিয়ে দেয়ার খরচ চাচ্ছিলেন। তখন বিষয়টি আমার ভাল লাগেনি। তাই আমি শালিস থেকে চলে গিয়ে ছিলাম। পরদিন সকালে শুনি শাহাদাৎ সৈকতের প্রথম স্ত্রীর ছোট বোনকে সৈকতের জন্য দ্বিতীয় স্ত্রী করে তার বাবা নিয়ে গেছে।
এদিকে বিয়ে ভাঙ্গার খরচ হিসেবে প্রথম পুত্রবধূর ছোট বোনকে দ্বিতীয় পুত্রবধূ করে আনায় নেছারাবাদের ডুবি গ্রামে নিন্দার ঝড় ওঠে। এতে লোক লজ্জায় শাহাদাৎ ওই দ্বিতীয় পুত্রবধূকে এক আত্মীয়ার বাসায় পাঠিয়ে দেন।
সেখানে যোগাযোগ করে মেয়েটিকে মুঠোফোনে জিজ্ঞাসা করে জানতে কিছু জানতে চাইলে মেয়েটি জানায়, আমার বাবা মা বেড়ানোর কথা বলে দুলাভাই সৈকতের কাছে আমাকে পাঠিয়েছে। এখানে এসে জানতে পারি আমি তার দ্বিতীয় বউ।




