slider

বিসিক শিল্প নগরীর উন্নয়নের নামে হরিলুটের অভিযোগ

মেহেদী হাসান আকন্দ: নেত্রকোণার বিসিক শিল্প নগরীর উপ-ব্যবস্থাপক আক্রাম হোসেন ও কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের নামে স্বেচ্ছাচারীতা ও উন্নয়নের নামে হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে। গত ৩ নভেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন হোয়াইট স্টার ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফখরুল আলম।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হোয়াইট স্টার ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফখরুল আলম ৩৭৩ (২), ২৭১ (২) নং স্মারকে ৯৫০৬ বর্গফুট প্লট ২০১৮ সালের ২৭ মার্চ বরাদ্ধপ্রাপ্ত হয়। বিসিক শিল্প নগরীতে মাটি ভরাটের জন্য ২৫,০০০০০/- (পঁচিশ লক্ষ) টাকার টেন্ডার হয়। বিসিক শিল্প নগরীর তৎকালিন উপ-ব্যবস্থাপক মোয়াজ্জেম হোসেন ও কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন মাটি ভরাটের কাজ না করেই মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে ঠিকাদারকে প্রত্যয়ন দিয়ে দেয়।
২০২১ খ্রিষ্টাব্দের শেষের দিকে মাটি ভরাটের জন্য আবারো ১২,০০০০০/- (বার লক্ষ) টাকার টেন্ডার হয়। এই টেন্ডারেও তার প্লটে মাটি ভরাট না করেই বর্তমান উপ-ব্যবস্থাপক আক্রাম হোসেন এবং কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন ঠিকাদারকে প্রত্যয়ন প্রদান করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন শিল্প ইউনিট ত্রিপাক্ষিক চুক্তি ছাড়াই অন্যত্র ভাড়া দেয়া, বিসিকের সরকারি মিটার হতে ৮/৯ জন শিল্প মালিককে অবৈধ সংযোগ প্রদান করে তাদের নিকট হতে মাসোহারা নেয়া এবং শিল্প নগরীর কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন অফিসে না এসে বাড়িতে বসে অফিস করার অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে উপ-ব্যবস্থাপক আক্রাম হোসেনের সাথে কথা বলে জানা যায়, নেত্রকোণা শিল্প নগরীর মাটি ভরাট ও রাস্তা সম্প্রসারণ (আংশিক) কাজের জন্য ২০১৬ সালের ১২ জুলাই ১৯,৯৯,৯০৬/- (উনিশ লক্ষ নিরানব্বই হাজার নয় শত ছয়) টাকা চুক্তি মূল্যে মেসার্স প্যারাগন ইন্টারন্যাশনাল কার্যাদেশ পান। এরমধ্যে ১৩,৮৩,৪৯৩/- (তের লক্ষ তিরাশি হাজার চার শত তিরানব্বই) টাকার মাটি ভরাট এবং অবশিষ্ট টাকায় রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ করা হয়। চুক্তি মোতাবেক কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হয়। ২০১৬ সালের পর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিসিক শিল্প নগরীতে মাটি ভরাটের কোন টেন্ডার হয় নাই বলে তিনি জানান।
সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজের জন্য ২০২০ সালের ৫ নভেম্বর ৫,৬৬,৬৪৪/- (পাঁচ লক্ষ ছিষট্টি হাজার ছয় শত চুয়াল্লিশ) চুক্তি মূল্যে মেসার্স ম্সাা ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল কার্যাদেশ পান। চুক্তি মোতাবেক কাজ সম্পন্ন করার পর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স ম্সাা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালকে প্রত্যয়নপত্র দেয়া হলেও নিরাপত্তা জামানত এখনো ফেরৎ দেয়া হয়নি বলে জানান উপ-ব্যবস্থাপক আক্রাম হোসেন।
আক্রাম হোসেন বলেন, বিসিক শিল্প নগরীতে প্লট ভাড়ার ক্ষেত্রে শিল্প মালিক, ভাড়াটিয়া ও বিসিকের মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বিধান রয়েছে। বিসিকের সরকারি মিটার হতে ৮/৯ জন শিল্প মালিককে অবৈধ সংযোগ প্রদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৪০/৪৫ হাজার টাকার বিদ্যূৎ বিল আসে। সেক্ষেত্রে ৮/৯ শিল্প মালিককে অবৈধ সংযোগ প্রদান করলে গড়ে ৩/৪ লক্ষ টাকা বিদ্যূৎ বিল আসার কথা। বিসিক কার্যালয়ের বিদ্যূৎ বিলে দেখা যায়, জুন মাসে ৩৬১৫/- (তিন হাজার ছয় শত পনের) টাকা, জুলাই মাসে ৩৬২৫/- (তিন হাজার ছয় শত পঁচিশ) টাকা এবং আগষ্ট মাসে ২৭৫০/০ (দুই হাজার সাত শত পঞ্চাশ) টাকা বিদ্যূৎ বিল পরিশোধ করেছেন।
শিল্প নগরীর কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন অফিসে না এসে বাড়িতে বসে অফিস করার অভিযোগ প্রসঙ্গে উপ-ব্যবস্থাপক আক্রাম হোসেন বলেন, আলমগীর হোসেন ৩৭৪৮ নং স্মারকে চলতি বছরের ২৬ অক্টোবর সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কাজী মাহবুবুর রশিদ স্বাক্ষরিত ২ নভেম্বর হতে ১৬ নভেম্বর পর্যন্ত শ্রান্তি বিনোদন ছুটি ভোগ করছেন।
উপ-ব্যবস্থাপক আক্রাম হোসেন বলেন, তিনি ২০১৮ সালের ১৬ জুলাই নেত্রকোণা বিসিক কার্যালয়ে যোগদানের পর বিসিক শিল্প নগরীতে ৩০টি ইউনিট চালু করতে সার্বিক সহযোগীতা করেছেন। তিনি ২০২০-২০২১ এবং ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ৪ কোটি নগদ টাকা প্রণোদনা সহ বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ৭ কোটি টাকা ৬ ’শ জন উদ্যোত্কাদের মাঝে ঋণ বিতরণ করেছেন। উদ্যোক্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নারী। বিসিকের সাফল্যে ঈশ^ানিত হয়ে একটি মহলের প্ররোচনায় আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
হোয়াইট স্টার ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফখরুল আলম জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দেয়ার সত্যতা স্বীকার করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button