slider

বিশ্ব সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দিবসে লোকায়ত সংস্কৃতি সংরক্ষণের ডাক

মো.নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ : “সকলের মানবাধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় অবদান রাখি”
গতকাল মানিকগঞ্জ সিংগাইর উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামে বিশ্ব সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দিবস ২০২২ উপলক্ষে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণির সকল আন্তঃপ্রজন্মের মানুষের সাথে আঙ্গারিয়া নারী উন্নয়ন সমিতি, অঙ্কুর কিশোরী ক্লাব ও নিরাভরণ থিয়েটারের যৌথ আয়োজনে এবং বারসিক এর সহযোগিতায় বিকেল ৪.০০ ঘটিকা থেকে সন্ধা ৫.০০ ঘটিকা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক বন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ।
সমাবেশে আঙ্গারিয়া নারী উন্নয়ন সমিতির সভাপতি সবিতা রাণী সরকার এর সভাপতিত্বে ও বারসিক প্রকল্প সহায়ক রিনা আক্তার এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন খেলাঘর আসর মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক জগদীশ চন্দ্র মালো, বারসিক প্রকল্প কর্মকর্তা মো.নজরুল ইসলাম।

আরো কথা বলেন নিরাভরণ থিয়েটারের আহবায়ক মাস্টার সেলিম মাহমুদ,অঙ্কুর কিশোর কিশোরী ক্লাব এর সদস্য সচিব স্বপ্না রানী সরকার,রুমকা রানী সরকার,গৃহিণী লাকী আক্তার, রুনা আক্তার, কৃষক নিমাই সরকার, মনঞ্জয় সরকার,মিস্ত্রি সঞ্জয় সরকার, কামার লাকু সাহা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন আমরা বিশ্ব প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সন্তান। প্রত্যেক জাতির নিজস্ব ভাষা ও লোকায়ত সংস্কৃতি রয়েছে। এগুলো আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। আমরা বাঙালি আমাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও অন্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে চাই।
উল্লেখ্য যে-
বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়ার লক্ষে আজ দেশে পালিত হচ্ছে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দিবস। জাতিসংঘের আহ্বানে প্রতি বছর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির ধারণা সর্ব প্রথম আসে ইউনেস্কো থেকে। ২০০১ সালের নভেম্বরে ইউনেস্কো সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিষয়ক সর্বজনীন ঘোষণা দেয়। ঘোষণাটির গুরুত্ব বিবেচনায় জাতিসংঘ সে বছরই তা অনুধাবন করে। এই ধারাবাহিকতায় পরের বছর ২০০২ সালে দিবসটি পালনের আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। এরপর থেকে প্রতি বছর গোটা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে সংলাপ ও উন্নয়নের জন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য দিবস। খুব অল্প সময়েই আমেরিকা থেকে ওশেনিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ ও এশিয়ার প্রায় প্রতিটি দেশে এই দিবসের বার্তা পৌঁছে যায়। বিশ্বের সব মানুষকে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের গুরুত্ব ও সাদৃশ্য সম্পর্কে অবহিত করা এই দিবসের উদ্দেশ্য। যুদ্ধ বিগ্রহ এড়িয়ে শান্তির সঙ্গে বসবাস এবং মিলেমিশে জীবন গড়ার অনুপ্রেরণা দেয় এই দিবসটি।
সংস্কৃতি একজন মানুষকে প্রকৃত মানুষে পরিণত করে। গবেষকদের মতে- ভাষা, সাহিত্য, রীতিনীতি, মূল্যবোধ, মানবিকতা, জ্ঞান, শান্তি, শৌর্য, বিশ্বাস, সৌন্দর্য, চিরাচরিত প্রথা, মনোভাব প্রস্তুতির সমাহার হচ্ছে সংস্কৃতি। রয়েছে বস্তুগত সংস্কৃতিও। চারু, কারু শিল্প, স্থাপত্য, পোশাক-আশাক, খাবার-দাবার, আবাস, ব্যবহার্য উপকরণ ইত্যাদি বস্তুগত সংস্কৃতির অংশ। অর্থাৎ জীবনের অন্তর্গত সব বিষয়, কর্ম, চর্চা ও সাধনাই সংস্কৃতি। এটাই বাস্তবতা যে, মানবসমাজকে ভালোভাবে জানতে হলে বিশদভাবে বুঝতে হলে, তাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের খোঁজ খবর নেয়া জরুরি। বিভিন্ন বর্ণ, গোত্র, ভাষা সৃষ্টি হয়েছে এই বৈচিত্র্যের ফলে। [অনন্তকাল ধরে এসব সংস্কৃতি একটির সঙ্গে অন্যটির সংযোগ ছিলো এবং তা আগামীতেও থাকবে। এর মধ্য দিয়ে দারিদ্র্য বিমোচন, মানুষের ক্ষমতায়ন ও জাতীয় উন্নয়নে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ভূমিকা জানা যাবে। তাই এমনটি বললে ভুল হবে না যে, যে অঞ্চলে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য যতো বেশি, সেখানকার জীবন প্রণালী ততো সহজ। এই সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণেই একটি সমাজ মৌলিক হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সংস্কৃতির এই বর্ণিলতা উপভোগ করার অধিকার সবার।]

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button