slider

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে রাসায়নিক মুক্ত জীবন গড়ার ডাক

মো.নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি :”রাসায়নিক মুক্ত জীবন গড়ি, শারিরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকি” আজ মানিকগঞ্জ সিংগাইর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের বিআরডিবি সভাকক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের আয়োজনে সকাল ১০.ঘটিকা থেকে দুপুর ২.০০ ঘটিকা পর্যন্ত বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে রাসায়নিক বালাইনাশক ব্যবহারে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রভাব বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় কৃষক মো.সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও বারসিক কর্মসূচি সমন্বয়কারী মো.মাসুদুর রহমান এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাঈদুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবাব পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুজহাত নওরীন আমিন, মেডিকেল অফিসার (ডিজিজ কন্ট্রোল) ডাঃ মোঃরায়হানুল হক,জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান আনোয়ারা খাতুন, সিংগাইর কারিগরি কলজের অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র রায়,বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায়, প্রোগ্রাম সমন্বয়ক শিমুল কুমার বিশ্বাস, প্রকল্প কর্মকর্তা মো.নজরুল ইসলাম প্রমুখ।
এছাড়া যাদের সক্রিয় অংশগ্রহনে অনুষ্ঠান সাফল্য মন্ডিত হয় তারা হলেন কর্মএলাকার কৃষক-কৃষাণী, কিশোর-কিশোরী এবং প্রবীণ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ।
আলোচনায় প্রধান অতিথি বলেন সুন্দর ভাবে জীবন যাপন করতে হলে শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ থকতে হবে। সুস্থ থাকতে হলে আমাদের নিরাপদ খাবার খেতে হবে। তাই আমাদের সার, বিষ মুক্ত নিরাপদ খাবার উৎপাদন করতে হবে। আলোচনা সভায় অন্যান্য অতিথি বৃন্দ এবং বক্তারা আরো বলেন, বর্তমানে উৎপাদন বেশি হলেও খাদ্যের পুষ্টি গুণ কম, কৃষকদের প্রতি ইঞ্চি জমি সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য অনুরোধ করেছেন। তারা আরো বলেন অধিক উৎপাদনের আশায় আমরা মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করছি এতে করে আমারা নিজেরা নিজেদের ক্ষতি করছি, অতিরিক্ত সার,বিষ ব্যবহারের ফলে আমরা নানা ধরনের কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছি। আলোচনায়, তরুণদের উদ্দেশ্য অতিথিরা বলেন পড়াশোনার পাশাপাশি সকল ক্ষেত্রে নিজেদের যুক্ত করতে হবে।জীবনে সমস্যা থাকবেই সমস্যা মোকাবেলা করে ঘুরে দাড়াতে হবে।মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে সকলে মিলে মানসিকভাবে সুস্থ থাকার অঙ্গীকার করা হয়। সানাইল গ্রামের কৃষক নিরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, সুস্থ থাকার জন্য আমি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের যাত্রা শুরু করেছি। এখন আমি জমিতে সার,বিষ কিছু দেইনা। গোবর সার ব্যবহার করি এতে আমার উৎপাদন একটু কম হলেও লাভ বেশি হয়। নিরাপদ বলে বাজারে আমার সবজির চাহিদা বেশি।এভাবে আমারা সবাই মিলে যদি সার,বিষ মুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে পারি তাহলে সবাই সুস্থ থকতে পারবো এবং মাটিও ভাল থাকবে। কাশিমপুর গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল। সুস্থ থকতে হলে সুষম খাদ্য খেতে হবে। সার,বিষ মুক্ত খাবারের স্বাদ ও গন্ধ আলাদা।আমাদের চাষের জমি কম তাই যেটুকু আছে ভালোভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং বসত বাড়িতে ফলজ ও সবজি লাগাতে হবে।গোবিন্দল গ্রামের কৃষাণী পারভিন আক্তার বলেন, সুস্থ্ থাকতে হলে নিরাপদ খাদ্যের বিকল্প কিছুই নেই, তাই আমারা সবাই মিলে নিরাপদ খাবার উৎপাদন করবো এবং সুস্থ থাকবো। সকলের শারিরীক ও মানসিক সুস্থতা কামনা করে এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন চর্চা অব্যাহত রাখার ও রাসায়নিক মুক্ত জীবন গড়ার আহবান করার করা হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button