
আব্দুর রাজ্জাক, মানিকগঞ্জ :
বাবা, কতোদিন .. কতোদিন দেখি না তোমায়
কেউ বলে না তোমার মতো কোথায় খোকা ! ওরে বুকে আয়…
প্রতিথযশা কন্ঠশিল্পী জেমসের কালজয়ী এই গানের প্রতিটি অক্ষরেই যেন অটুট গাঁথুনীতে জড়িয়ে আছে বাবার প্রতি সন্তাানের অকৃত্রিম ভালবাসা ও বাবার ভালবাসা বঞ্চিত চিরন্তান আকাঙ্খার প্রতিচ্ছবি।
বাবা মানে একটু শাসন, অনেক ভালোবাসা। বাবা মানে একটু কঠিন, মাথার উপর ছায়া। বাবা মানে নির্ভরতার আকাশ, আর একরাশ নিরাপত্তা। … হ্যাঁ, বাবারা এমনি হয়। রাগ, শাসন আর রাশভারী চেহারার পেছনে এই মানুষটির যে কোমল হৃদয় তা মাতৃ হৃদয়ের চেয়ে কোনো অংশেই কম নয়।
একজন পিতার শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হচ্ছে তার সন্তাান। বাবার প্রতি প্রতিটি সন্তাানের মনে থাকে গভীর শ্রদ্ধা ও আবেগ। কিন্তু পরিবারের পরিবেশগত কারণে ক্ষেত্র বিশেষ এই শ্রদ্ধা কখনো পায় না পূর্ণ মর্যাদা।
বাবা আমাদের যতটুকু শাসন করেন তার চেয়ে অনেক বেশি ভালোবাসেন। মাঝে মাঝে বাবার শাসনে আমারা বিরক্ত হই ঠিকই, কিন্তু চোখ বন্ধ করে শুধু এক মুহুর্তের জন্য ভাবুন মাথার উপর বাবা নামের ছায়াটি আর নেই! দেখবেন মাথার দূরের ওই আকাশটাকে মনে হবে ওটা আপনার মাথার উপরেই রয়েছে।
আজ ১৯ জুন ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। যদিও বাবাকে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে কোনো বিশেষ সময়ের প্রয়োজন পরেনা, তবুও আজ বাবা দিবসে বিশ্বের সকল বাবাদের প্রতি রইলো বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
আসলে মায়েদের পাশাপাশি পিতারাও যে তাদের সন্তাানের প্রতি দায়িত্বশীল- এটা বোঝানোর জন্যই বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিক থেকে পিতৃ দিবস পালন শুরু হয়। পৃথিবীর সব পিতাদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশের ইচ্ছা থেকে যার শুরু। ধারণা করা হয়, ১৯০৮ সালের ৫ই জুলাই, আমেরিকার পশ্চিম ভার্জেনিহয়ার ফেহয়ারমন্টের এক গির্জাহয় এই দিনটি প্রথম পালিত হয়। আবার, সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওহয়াশিংটনের এক ভদ্রমহিলার মাথাতেও বাবা দিবসের আইডিয়া আসে। তার মনে হয়, যেখানে মাকে নিয়ে দিবস পালিত হচ্ছে, তাহলে পিতাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার। ডড আবার তার পিতাকে খুব ভালবাসতেন। তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর, অর্থ্যাৎ ১৯শে জুন, ১৯১০ সালের থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু করেন। ১৯১৩ সালে আমেরিকান সংসদে পিতৃ দিবসকে ছুটির দিন ঘোষণা করার জন্য একটা বিল উত্থাপন করা হয়। ১৯২৪ সালে তৎকালীন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজ বিলটিতে পূর্ণ সমর্থন দেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন বাবা দিবসকে ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে জুন মাসের তৃতীয় রবিবার পিতৃ দিবস হিসেবে পালিত হহয়। এভাবেই বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সকল দেশেই বাবার প্রতি অসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রাকাশের মাধ্যমে পালিত হয় দিবসটি।
যদিও আগের দিনে বাবার সঙ্গে সন্তাানের সম্পর্ক ছিলো খানিকটা দূরত্ব, খানিকটা সংকোচ ও খানিকটা ভীতি মেশানো শ্রদ্ধা। তবে সেই অবস্থা এখন আর নেই বললেই চলে। এখনকার সময়ে অনেক বাবাই সন্তাানদের বন্ধুর মতো, একদম কাছের মানুষ। স্নেহশীল। কর্তব্যপরায়ণ।
ডাক যাই হোক না কেনো। রক্তের সম্পর্ক বদলায় না। বাদলায় না এই ডাকের আবেগও। এই ডাক টার মধ্যেই জরিয়ে থাকে পৃথিবীর সকল আবেগ ও ভালোবাসা।
আসুন এই ‘বাবা দিবসে’ আমারা সকলেই বাবাকে বলি, ‘বাবা, খুব ভালোবাসি তোমাকে, যে ভাবে পাশে আছো সেভাবেই থেকো চিরদিন’।
আর যার বাবা বেঁচে নেই ভূবনে, তারো চোখের জলে একবার হলেও ভাবে বাবাকে। বাবার প্রতি এতোটা ভালোবাসা কিভাবে প্রর্দশন করবো? কাকে সেই প্রিয় ‘বাবা’ বলে ডাকবে? অগনিত ভাগ্যবিড়ম্বিতদের এই আক্ষেপ অন্তারের, এই জ্বালা চিরকালের।
জীবন চিরায়ত বহমান। সকল হারানো কিংবা শোক-তাপের ঊর্ধ্বেও জীবন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আর এই সত্যটাই চিরন্তন। ভালোবাসার বহতার কথা বলেছেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি তাঁর পিতার শেষ অন্তোাষ্টি ক্রিয়ার প্রার্থনায় বলেছিলেন, ‘‘ বাবা আলোকের ন্যায়, সমিরণের ন্যায়, তাহা শিশুকাল হইতে আমাদিগকে নিয়ত রক্ষা করিয়াছে, কিন্তু তাহার মূল্য কেহ কখনো চাহে নাই!’’





