slider

বিশ্ব পানি দিবসে নদীর পানি দুষন ও দখল মুক্ত রাখার প্রত্যয়

মো. নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : “ভ’গর্ভস্থ পানি অদৃশ্য সম্পদ, দৃশ্যমান প্রভাব” প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে মানিকগঞ্জ স্যাক কার্যালয়, বেসরকরি সংগঠন বারসিক ও ধলেশ^রী নদী বাঁচাও আন্দোলণ কমিটি এর যৌথ আয়োজনে ধলেশ^রী, কালিগঙ্গাসহ জেলার সকল নদী-নালা,খাল-বিল দখল ও দূষণমুক্ত রাখতে এবং ভূউপরিভাগের পানির ব্যবহার বৃদ্ব্যির দাবীতে মতবিনিময় সভা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
ধলেশ^রী নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাড: আজাহারুল ইসলাম আরজু এর সভাতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা শংকর ঘোষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল ইসলাম ফারুক, বিশিষ্ট পরিবেশ বাদী সংগঠক এ্যাড: দীপক কুমার ঘোষ, ধলেশ^রী নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও ডেইলী স্টার মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম বিশ^াস, সাবিস (সাংস্কৃতিক বিপ্লবী সংঘ) মানিকগঞ্জ এর সদস্য কামাল আহমেদ কমল, বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারি বিমল চন্দ্র রায় ও বারসিক প্রোগ্রাম অফিসার রাশেদা আক্তার প্রমুখ।
মতবিনিময় সভা শেষে মানিকগঞ্জ শহরের জেলা পরিষদের আওতাধীন রিজার্ভ ট্র্যাঙ্ক পুকুরের দূষণ ও অব্যবস্থাপনা রোধ করে সংরক্ষণ এবং ব্যবহার উপযোগি করার দাবীতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয় সেই সাথে মানিকগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন পুকুর, জলাধার সংরক্ষণ ও ব্যবহার উপযোগি এবং আগামী বাজেটে বরাদ্দ রাখা, নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবীতে ও মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
ধলেশ^রী নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহবায়ক এ্যাড. আজাহারুল ইসলাম আরজু বলেন-’আমরা ধলেশ^রী নদী খননের জন্য আন্দোলন করেছি। সরকার ধলেশ^রী নদী খনন করেছে। সরকার নদীবান্ধব। মানিকগঞ্জ শহরের ভেতর অনেক পুকুর আছে যেগুলো ব্যবহার করা যায় না। এই সব পুকুরগুলো সংরক্ষণ করে ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে বসতে হবে। তাদের সাথে আলোচনা করতে হবে। নদী, খাল-বিল, পুকুর, জলাশয় রক্ষায় উদ্যোগ নিতে হবে যাতে মানুষ এর পানি ব্যবহার করতে পারে। তাহলে ভ’গর্ভস্থ পানির চাপ অনেক কমবে।”
বিশিষ্ট পরিবেশবাদী সংগঠক এ্যাড: দীপক কুমার ঘোষ বলেন, “আমরা এর আগে মানিকগঞ্জ শহরের রিজার্ভ ট্র্যাঙ্ক পুকুর, সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের পুকুর ও সরকারী দেবেন্দ্র কলেজের পুকুর সংরক্ষণ ও ব্যবহার উপযোগি করার দাবীতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করেছিলাম। তিনি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু যেভাবে উদ্যোগ নেওয়ার কথা ছিল সেভাবে উদ্যোগ না নেওয়ায় পুকুরটি আবার আগেরমত অবস্থা হয়েছে। বিভিন্ন বাসাবাড়ির বর্জ্যও পুকুরে ফেলা হচ্ছে। এই পুকুর সংরক্ষণ ও ব্যবহার উপযোগি করার জন্য এখনই উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আজ আমরা আবার স্মারকলিপি প্রদান করবো। আমরা চাই অতিসত্ত¡র এই পুকুর সংরক্ষণ করে ব্যবহার উপযোগি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।”
আলোচকগন আরো বলেন- মানিকগঞ্জ জেলার অন্যতম প্রধান নদী ধলেশ^রী খননের দাবীতে আমরা ধলেশ^রী নদী বাঁচাও আন্দোলন কমিটিসহ সামাজিক সাংস্কৃতিক ও সেচ্ছাসেবী প্রগতীশীর সংগঠনের সকলকে নিয়ে একসাথে কাজ শুরু করি। ধলেশ^রী নদী পাড়ের মানুষকে সাথে নিয়ে দীর্ঘদিন সভা, সমাবেশ, মতবিনিময় আন্দোলনের ফলে সরকারের নদী রক্ষায় দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে ধলেশ^রী, কালিগঙ্গা, গাজীখালী, ইছামতি নদীসহ কয়েকটি খাল খননের কাজ চলছে। সরকারের এই উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু খাল, বিল, নদী-নালায় ময়লা ফেলে পানি ব্যবহার অনুপযোগি করা হচ্ছে। ফলে প্রাণবৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে। আজ বিশ^ পানি দিবসে আমাদের দাবী মানিকগঞ্জ শহরের রিজার্ভ টাংকি পুকুরসহ বিভিন্ন নদী, খাল, পুকুর দূষণমুক্ত ও সংরক্ষণ করে ব্যবহার উপযোগি করতে আপনাদের সহযোগীতা চাই।
উল্লেখ্য ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে জাতিসংঘ পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনের এজেন্ডা ২১ এ প্রথম বিশ^ পানি দিবস পালনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। ১৯৯৩ সালে প্রথম বিশ^ পানি দিবস পালিত হয় এবং এর পর হতে এই দিবসটি পালনের গুরুত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলি এই দিনটিকে নিজ নিজ রাষ্ট্রীয় সীমার মধ্যে জাতিসংঘের জলসম্পদ সংক্রান্ত সুপারিশ ও উন্নয়ন প্রস্তাব গুলির প্রতি বিশেষ মনোনিবেশের দিন হিসেবে উৎসর্গ করে প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে পালিত হয়ে আসছে।পরিচ্ছন্ন জল ও জল সম্পদ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে এই দিবস বাংলাদেশেও সরকারি-বেসরকারি ভাবে পালিত হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button