আন্তর্জাতিক সংবাদ

বিশ্বে শরণার্থীর সংখ্যা সাড়ে ৬ কোটি, নতুন রেকর্ড

বিশ্বব্যাপী শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ এ সংখ্যা ৬ কোটি ৫৩ লাখ হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপ এবারই প্রথম সবচেয়ে ভয়াবহ শরণার্থী সংকটের মুখে পড়েছে। বিশ্বব্যাপী এক শতাংশ মানুষ নিজের বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানায়, এই প্রথমবারের মত শরণার্থীর সংখ্যা ৬ কোটির সীমা ছাড়িয়েছে। সোমবার বিশ্ব শরণার্থী দিবসে এ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। ইউএনএইচসিআর প্রধান ফিলিপো গ্রান্ডি বলেন, সংঘাত ও দমন পীড়নের ফলে অসংখ্য মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে এবং শরণার্থী বিরোধী রাজনৈতিক ভাবধারার কারণে তাদেরকে পুনর্বাসনের আগ্রহ আটকে রয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ২০১৫ সালের মধ্যে বাস্তুচ্যুত লোকের সংখ্যা বেড়ে হয় ৫ কোটি ৮০ লাখ। বিশ্বের লোকসংখ্যা ৭৩৪ কোটি ৯০ লাখ ধরে জাতিসংঘ জানায়, প্রতি ১১৩ জনের একজন হয় অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত বা একজন শরণার্থী। এ সংখ্যা ব্রিটেন বা ফ্রান্সের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। ১৯৯০ এর দশকের মাঝামাঝি থেকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও ২০১১ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে।

বিশ্বে এখন মোট ৬ কোটি ৫৩ লাখ লোক বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ কোটি ৮০ লাখ নিজেদের দেশের মধ্যে বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ২ কোটি ১৩ লাখ সীমান্ত পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিয়েছে। শরণার্থীদের মধ্যে ফিলিস্তিনী নাগরিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি এবং এ সংখ্যা ৫০ লাখেরও বেশি। এর পরের অবস্থানে রয়েছে সিরিয়া। দেশটির মোট শরণার্থীর সংখ্যা ৪৯ লাখ। তারপরে রয়েছে আফগানিস্তান (শরণার্থীর সংখ্যা ২৭ লাখ) এবং সোমালিয়া (শরণার্থী ১১ লাখ)।

 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button