বিপিএল ফাইনাল : প্রশ্নবিদ্ধ সাকিবের ক্যাপ্টেন্সি

বিপিএলের সবচেয়ে তারকাসমৃদ্ধ দল ঢাকা ডায়নামাইটস। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই দারুণ খেলেছে দলটি। শুরু থেকেই তাদের বিবেচনা করা হচ্ছিল সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও; কিন্তু মঙ্গলবার ফাইনালে এসে দলটি যেন খেই হারিয়ে ফেলে।
মূলত ক্রিস গেইলের কাছেই হেরে গেছে সাকিব আল হাসানের দলটি। তথাপি খেলার পর দর্শক-সমর্থকরা কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছেন মাঠের কিছু সিদ্ধান্তকে। কেউ কেউ তো ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের ‘ভুল’গুলেকেই মানছেন পরাজয়ের কারণ হিসেবে।
টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছিল ঢাকা। আগ বাড়িয়ে ক্রিস গেইলের হাতে ব্যাট তুলে দেয়ার ফল কী হয়েছে তা তো তারা দেখতেই পেয়েছে। তার ওপর ঢাকার ব্যাটিং লাইনআপ তারকা সমৃদ্ধ। আগেও কয়েকটি ম্যাচে তারা আগে ব্যাট করে বড় স্কোর দাড় করিয়েছে। তাই অনেকের কাছেই সাকিবের আগে ফিল্ডিং নেয়া বিস্ময়কর ঠেকেছে। দল নির্বাচন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এমন হাই ভোল্টেজ ম্যাচ-যেখানে প্রতিপক্ষে আছেন গেইল-ম্যাককালাম সেখানে পাকিস্তানের বাঁহাতি পেসার মোহাম্মদ আমিরকে না খেলানো নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করেছেন। এই মূহুর্তে বিশ্বের সেরা পেসারদের একজন অবশ্যই আমির।
ঢাকার হয়ে মঙ্গলবার খেলেছেন দুই পেসার আবু হায়দার রনি ও খালেদ আহমেদ। টুর্নামেন্টে আগে মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলেছেন খালেদ। মঙ্গলবার তাকে একাদশে দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। অনভিজ্ঞ এই পেসার দুই ওভারে দিয়েছেন ৩৯ রান।
অবাক হওয়ার মত বিষয় আরো আছে। বল হাতে প্রথম ওভারেই উইকেট মেডেন নিয়েছেন সাকিব। প্রথম স্পেলের দুই ওভারে দিয়েছেন মাত্র ৭ রান। কিন্তু তারপরও ইনিংসের মাঝপথে গেইলকে থামাতে কেন বল হাতে তুলে নেননি সাকিব সেটি রহস্য। এলেন একেবারে শেষ ওভারে। ততক্ষণে রংপুর রানের পাহাড়ে। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে সফল বোলার এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিজের কোটাও পূরণ করেননি!
ব্যাটিং অর্ডারে পাহাড় টপকাতে গিয়ে যে ধরণের পরিকল্পনা থাকার কথা ছিলো তা দেখা যায়নি ঢাকার। শহীদ আফ্রিদি, সুনীল নারিন থাকার পরও এভিন লুইসের সাথে ওপেন করতে নেমেছেন মেহেদী মারুফ। যিনি কিনা টুর্নামেন্টে আগের ম্যাচগুলোতে দুটি ডাক, একটি ৬ ও একটি ১৫ রানের ইনিংস খেলেছেন। উল্লেখযোগ্য ইনিংস বলতে ৩৩ রানের একটি স্কোর। আজও শূন্য রানে ফিরেছেন মেহেদী। অথচ শহীদ ও সুনিল নারিন কে ব্যাট করতে পাঠানো হয়েছে যথাক্রমে ৮ ও ৯ নম্বরে।
সাকিবের সিদ্ধান্তগুলো ক্রিকেটীয় যুক্তিতে কিংবা তার মেধাবী ক্রিকেটীয় মস্তিষ্কে হয়তো সময়োপযুক্ত ছিলো। কিন্তু সেসব ব্যাকরণ মানতে তো আর কোন বাধ্যবাধকতা নেই দর্শকদের। তার চাইবেন দলের সাফল্য। তাই সোস্যাল মিডিয়া কিংবা টিভি সেটের সামনে অনেকেই সমালোচনা করেছেন এসব বিষয় নিয়ে।




