বিপদে পড়লেই সরকার জঙ্গি নাটক সাজায় : আলাল

বিপদে পড়লেই সরকার জঙ্গি নাটক সাজায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার পরিষদ আয়োজিত মানববন্ধনে আলাল এসব কথা বলেন। ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের হামলার শিকার কলেজছাত্রী খাদিজাকে বিদেশে পাঠিয়ে চিকিৎসার দাবিতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলাল বলেন, কোনো বিপদে পড়ে, জনরোষের মুখে পড়ে তখনই জঙ্গিদের একেকটি নাটক সাজানো হয়। ইদানীংকালে আবার সেই রকম হচ্ছে। মানুষের কাছে খুব আশ্চর্য লাগে যে কোনো জঙ্গির নাম পুলিশ জানতে পারল না। র্যাব জানতে পারল না, সোয়াত জানতে পারল না, ডিবি জানতে পারল না। কিন্তু তারা জঙ্গি হয়ে মারা গেল। এখন মানুষের কাছে বলছে, তাদের নাম জানা থাকলে জানান।
আলাল বলেন, আপনি যদি নামই না জানেন, পরিচয়ই না জানেন, তাহলে সে জঙ্গি, এটা বুঝলেন কিভাবে?
তিনি বলেন, চাপাতি যখন ছাত্রলীগ নেতা বদরুলদের হাতে থাকে তখন সেটা হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর এই চাপাতি যখন বিরোধীদের হাতে থাকে তখন এটা জঙ্গি। এই হলো বর্তমান দেশের অবস্থা।
তিনি বলেন, গোটা বাংলাদেশ আজ নির্যাতিত খাদিজা, রিশা, তনুর প্রতিচ্ছবি। শুধু তারাই নয়, গোটা বাংলাদেশের মানুষ আজ ছাত্রলীগ কর্তৃক নির্যাতিত। বিচার শুধু বিরোধীদের বেলায়, ক্ষমতাসীনদের জন্য কোনো বিচার নেই।
আলাল বলেন, বিএনপি বিদ্যুৎ ও রামপালের বিপক্ষে নয়। আমরা সুন্দরবন বাঁচানোর পক্ষে। আমাদের দেশে যেমন সুন্দরবন আছে ভারতের অংশেও আছে। তাহলে ওই দেশে কেন তিনবার এ বিদ্যুৎ প্রকল্পকে বাতিল করছে। সেটি এখন আমাদের দেশে হচ্ছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আপনারা রামপাল বিদ্যুৎ করছেন। কিন্তু দেশের জনগণ এটি ভালো করেই জানে যে আপনারা যা করছেন এর ফলাফল অত্যন্ত খারাপ।
বিএনপির এই নেতা বলেন, রামপালে গেলে ধাওয়া খাওয়ার কথা বলছেন, একটু সুযোগ করে দেন দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার, দেখি কারা ধাওয়া খায়।
এসময় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আলাল বলেন, আপনি সংসদে দাড়িয়ে বদরুলকে দোষারূপ না করে বরং মানুষকে দোষারূপ করে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে লজ্জা হয়। বিডিআর বিদ্রোহের সময় আপনার আদেশের অভাবে সেনাবাহিনী অভিযান করতে পারেনি। যার ফলে আমরা ৫৭ জন সেনাকর্মকর্তা ভাইকে হারিয়েছিলাম।
আবু নাসের মোহাম্মাদ রহমতউল্লাহ বলেন, সিলেটে খাদিজার উপর নৃশংস হামলা করেছে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল। এর কোন ক্ষমা নেই। একের পর এক নৃশংস ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রলীগ বাংলাদেশের রাজনীতিকে কলুষিত করেছে। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।
আয়োজক সংগঠনের উপদেষ্টা কাজী মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আবেদ রাজা, এনডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর হোসেন ঈসা, শাহবাগ থানা কৃষক দলের সভাপতি এম জাহাঙ্গির আলম, ঘুরে দাঁড়াও বাংলাদেশের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী, জাতীয়তাবাদী নাগরিক দলের সভাপতি শাহজাদা সৈয়দ মো. ওমর ফারুক, মোস্তফা কামাল প্রমুখ।




