
ফ্রান্সের থেকে অত্যাধুনিক ফাইটার জেট রাফায়েল কেনার চুক্তি করেছে ভারত। শুক্রবার ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিকর ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জঁ ইভস লে দ্রিয়ানের সঙ্গে ৭.৮৭ বিলিয়ন ইউরোর এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মিসাইল বহনে সক্ষম মোট ৩৬টি রাফায়েল ফাইটার জেট কিনবে ভারত। অত্যাধুনিক এই যুদ্ধবিমান ভারতীয় বিমান বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হলে এক ধাক্কায় পাকিস্তানের থেকে বিমান বহরে অনেকটাই এগিয়ে যাবে ভারত। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, তারা চীন থেকে তখনো অনেক পিছিয়ে থাকবে।
ছ’মাস আগে ফ্রান্স সফরে গিয়ে রাফায়েল এয়ারক্র্যাফট কেনার কথা ঘোষণা করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইউপিএ আমলেও এই ধরনের একটি চুক্তির কথা হয়েছিল। কিন্তু তা বাতিল করে নতুন করে চুক্তি চূড়ান্ত করে মোদি সরকার। নতুন চুক্তিতে ফ্রান্সের দর কষাকষি করে যুদ্ধবিমান কিনতে ৭৫০ মিলিয়ন ইউরো লাভ করেছে ভারত। চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ৩৬ মাস পর থেকে যুদ্ধবিমানগুলি ভারতে সরবরাহ করা শুরু করবে ফ্রান্স। ৬৬ মাসের মধ্যে ভারতীয় বিমান বাহিনীর হাতে সবকটি রাফায়েল তুলে দেয়া হবে।
এই রাফায়েল যুদ্ধবিমানে থাকবে মেটেটর ও স্ক্যাল্প-এর মতো অত্যাধুনিক মিসাইল। যতদূর দেখা যায় তাই বাইরে কতদূর পর্যন্ত মিসাইলগুলি আঘাত হানতে পারে, তার ওপর বিচার করে এগুলির গুণমান নির্দিষ্ট করা হয়। এই ধরনের মিসাইলগুলোকে বলে দৃষ্টিসীমার বাইরের টার্গেট বা বিভিআর। রাফায়েল-এর মিসাইলগুলির বিভিআর ১৫০ পাল্লার। অর্থাত্ চোখের দৃষ্টির বাইরে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে আঘাত হানতে পারবে আকাশ থেকে আকাশে আঘাত হানতে সক্ষম এই মিসাইল। মানে পাকিস্তানের ভেতরের অনেকটাই এবার ভারতের নাগালে চলে এলো।
বর্তমানে পাকিস্তানের অস্ত্রাগারে রয়েছে বিভিআর ৮০ কিলোমিটার পাল্লার মিসাইল। কার্গিল যুদ্ধের সময় ভারত বিভিআর ৫০ ছুঁড়েছিল। তখন পাকিস্তানের কাছে কোনো বিভিআর ছিল না। বর্তমানে পাকিস্তানের কাছে বিভিআর ৮০ থাকলেও রাফায়েল চলে এলে অস্ত্রভাণ্ডারে অনেক বেশি সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে ভারত। এই যুদ্ধবিমানে থাকে স্ক্যাল্প মিসাইল আকাশ থেকে মাটিতে আঘাত হানতে পারে। ৩০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব যেতে পারে এই মিসাইল।
তবে চীনের কথা মাথায় রাখলে, বিশ্লেষকদের মতে, ভারত বিমান শক্তিতে এখনো অনেক পিছিয়ে আছে।




