slider

বিদ্যুৎপৃষ্টে গাছেই মৃত্যু আবুল খায়েরের পরিবারে হাহাকার

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা: কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের তিনচিটা গ্রামের আবুল খায়ের ভূঁইয়া (৪৬) বৃহস্পতিবার সকালে তাল গাছের বাউগ্গা কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে গাছেই মৃত্যু বরন করেন। পার্শবর্তি শায়েস্তা নগর গ্রামের ফারুক মোল্লার সাথে গাছ প্রতি চুক্তিভিত্তিক অর্থের বিনিময়ে তাল গাছের বাউগ্গা কাটতে সকালেই তিনি কাজ শুরু করেন। প্রথম গাছ পরিস্কার করার পর অন্য গাছে উঠে অসাবধানতা বসত বিদ্যুতের মূল তারে জড়িয়ে গাছেই মৃত্যু বরন করেন। নিরাপত্তার জন্য গাছের সাথে কোমড়ে দড়ি বাঁধা থাকায় গাছেই ঝুলে ছিল হতভাগ্য আবুল খায়ের। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাঁর লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। জানাজা শেষে সন্নিকটের কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আবুল খায়েরের স্ত্রী সেলিনা আক্তার, বড় দুই বোন দেলোয়ারা বেগম ও হাসনা বেগম জানান, সকালে ফারুক মোল্লার গাছ পরিচ্ছন্ন কাজে আবুল খায়ের বাড়ি থেকে বের হয়। কাজ শেষে বানিয়া পাড়া দরবার শরীফে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু তাঁর শেষ ইচ্ছে পুরন হলোনা। আবুল খায়েরের উপার্জনের অর্থে চলতো সংসার, সম্প্রতি নিজ গ্রামের একটি এনজিও থেকে একলক্ষ দশহাজার টাকা এনেছিলেন বিবাহিত মেয়ে সুমি আক্তারের চোখের অপারেশন সহ চিকিৎসার জন্য। ছোট মেয়ে মিম আক্তার এসএসসি পাশের পর অর্থাভাবে এইচএসসি পড়া হবে কি না অনিশ্চিত হয়ে পরেছে। আবুল খায়ের সাধারণত তাল ও নারিকেল গাছের বাউগ্গা কাটা এবং মধুর বাসা কাটায় দক্ষ ছিলেন। তবে কতটাকা চুক্তিতে ফারুক মোল্লা, খায়ের ভূঁইয়াকে কাজ দিয়েছেন এবং বিদ্যুতের তার বিষয়ে সতর্ক করেছেন কিনা জানতে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে ফোন করলে তিনি কল রিসিভ করেন নি। তবে তাঁর বোন জানায়, তাল বাগানটি তাঁর ভাই লিজ নিয়েছে মালিক খোরশেদ আলম। কিন্তু খোরশেদ আলমের এলাকায় কোনো বাসস্থান নেই তিনি ঢাকায় থাকেন। অসহায় আবুল খায়েরের পরিবারকে আর্থিক সাহায্যে সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সমাজ সেবা দপ্তর থেকে এগিয়ে আসার জন্য তাঁর স্ত্রী সেলিনা আক্তার সহ এলাকাবাসী অনুরোধ করেছেন। আবুল খায়েরের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে পরিবারে চলছে হাহাকার এবং এলাকাবাসীর মাঝে বিরাজ করছে শোকের ছায়া।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button