বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার গ্রাহকদের ভোগন্তি

আব্দুর রাজ্জাক,ঘিওর, মানিকগঞ্জ : বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার রিচার্জের ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ঘিওর উপজেলাসহ মানিকগঞ্জের গ্রাহকরা। আগে রিচার্জ করতে গ্রাহককে মিটারে ২০টি ডিজিট প্রবেশ করাতে হতো। এখন করাতে হচ্ছে ২০০ থেকে ২৪০টি ডিজিট। এতগুলো ডিজিট একসঙ্গে প্রবেশ করাতে গিয়ে অনেকেই ভুল করছেন। বারবার ভুল করার ফলে মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে অনেক গ্রাহককে। অভিযোগ কেন্দ্রে জানিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট অফিসে যেয়েও সহসাই মিলছে না সমাধান। এতে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে।
ঘিওর উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি সরকারের নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম গড়ে ইউনিট প্রতি ৩৬ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের ট্যারিফ চেঞ্জ হওয়ার পর থেকে সার্ভারে আপডেট করতে এই টেকনিক্যাল সমস্যা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নে সরকার ২০১৫ সালে প্রি পেইড মিটার সিস্টেম চালু করেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাইকারি, খুচরা ও সঞ্চালন- এ তিন পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরও এ সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তখন গ্রাহকে ১০০টি ডিজিট প্রবেশ করিয়ে রিচার্জ করতে হয়েছে। এখন একজন গ্রাহককে একবারই ২০০-এর অধিক ডিজিট প্রবেশ করিয়ে ব্যালেন্স রিচার্জ করতে হবে। যাদের সমস্যা হচ্ছে বা মিটার লক হয়ে যাচ্ছে সেগুলো সমাধান করে দেওয়া হচ্ছে।
প্রি-পেইড মিটার রিচার্জ করা মেসার্স খান ট্রেডার্সের মালিক মোঃ রুবেল খান বলেন টোকেন সিস্টেমে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার রিচার্জের ক্ষেত্রে সাধারণত ২০ ডিজিটের একটি টোকেন মোবাইল ফোনে বার্তা আকারে আসে। সেই টোকেন নম্বরটি মিটারে প্রবেশ করালে রিচার্জ সম্পন্ন হয়। কিন্তু ২০ ডিজেটের এই টোকনের পরিবর্তে গ্রাহকদের চাপতে হচ্ছে ২৪০ ডিজিটের টোকেন। গ্রামের গ্রাহকরা ভুল করছেন, ভোগান্তি হচ্ছে। সেই সাথে গ্রাহকরা আমাদেরও বারবার ফোন দিয়ে বা দোকানে এসে সমাধান চেয়ে ভীড় করছেন।
রাথুরা গ্রামের গ্রাহক মো: শিপন মিয়া বলেন বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার রিচার্জ করলে আগে মোবাইলে ২০ ডিজিটের একটি টোকেন আসতো। সেই টোকেন নম্বরটি মিটারে প্রবেশ করালে সহজেই রিচার্জ সম্পন্ন হতো। গত বুধবার মিটার রিচার্জ করতে গিয়ে বাঁধে সমস্যা। পল্লী বিদ্যু অফিসে যেয়ে রিচার্জ করি। টোকেনে আসে ২৪০টি শব্দ। এতগুলো সংখ্যা মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে ৩ বার ভুল হয়। পএ নিয়ে বেশ ভোগান্তিতে কেটেছে দুই দিন।
ভোগান্তির কথা জানালেন বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ডের রাইস মিলের মালিক মোঃ হায়াত আলী। তিনি বলেন, অনেকগুলো নাম্বার তুলতে গিয়ে কয়েকবার ভুল হয়। পনরায় চাপতে হয়। মিটার লক হয়ে যায়। পরে আঞ্চলিক অফিসে গিয়ে একদিন পর ঠিক হয়। বিদ্যুতের জন্য মিল একদিন বন্ধ থাকে।
ঘিওর পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম বলেন, এটা একজন গ্রাহককে একবারই করতে হবে। বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধির কারনে সফটওয়্যারগত এই সমস্যা। কোনো গ্রাহকের যদি সমস্যা হয় আমাদের কাছে জানালে তা দ্রুত সমাধান করে দেব। এ সমস্যা সমাধানে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সাথে কাজ করছেন।




