অর্থনৈতিক সংবাদশিরোনাম

বিজিএমইএর মুচলেকা সংশোধন করে দাখিলের নির্দেশ

‘ভবন ভাঙতে এবারের পর আর সময় চাইবে না’
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ‘ভবন ভাঙতে এবারের পর আর সময় চাইবে না’ দাখিল করা এমন মুচলেকায় কিছু অস্পষ্টতা থাকায় তা সংশোধন (মোডিফাই) করে ফের আগামী সোমবারের (০২ এপ্রিল) মধ্যে দিতে বলেছেন আপিল বিভাগ।
আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে বিজিএমইএর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলাম। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন এ মামলায় হাইকোর্টের অ্যামিকাস কিউরি অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
পরে মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের বলেন, বিজিএমইএ’র বোর্ড অব ডিরেক্টরসদের পক্ষ থেকে একটি মুচলেকা দাখিল করা হয়েছিলো। সেখানে বলা হয়েছিলো, বোর্ড অব ডিরেক্টরস আর সময় চাইবে না। যদি চায় তাহলে তারা দায়ী হবে। তখন কোর্ট প্রশ্ন তুলেছেন যে, বিজিএমইএ’র বোর্ড অব ডিরেক্টরস ৬ মাস ১ বছর পর নাও থাকতে পারে। সে বিষয়টার কোনো ব্যাখ্যা নাই। আরেকটা বিষয় হলো আপনারা বলেছেন, ভবন ছেড়ে দিবেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশনা ছিলো ৯০ দিনের মধ্যে ভবনটি ভাঙতে হবে। সে বিষয়েও কিছু বলা নাই। তখন বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে নতুন করে মুচলেকা দেওয়ার কথা বলেন তাদের আইনজীবী। সেই মুচলেকায় বলা থাকবে বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে আর সময় চাওয়া হবে না। সময় শেষ হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বিজিএমইএ নিজেরাই ভাঙবে। আদেশ না মানলে বিজিএমইএ দায়ী থাকবে। সোমবার মুচলেকা দাখিল করতে বলা হয়েছে। আশা করি আদালত সোমবার সময়ের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
আর সময় চাইবে না- এমন মুচলেকা দিতে বিজিএমইএকে মঙ্গলবার আদালত নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এর আগে বহুতল ভবন ভাঙতে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে তৃতীয়বারের মতো আরও একবছর সময় চেয়ে আবেদন করা হয়। গত ৫ মার্চ বহুতল ভবনটি ভাঙতে আরো এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ৮ এপ্রিল বিজিএমইএর বহুতল ভবনটি ভাঙতে সাত মাস সময় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আদেশে আদালত বলেছিলেন, এটাই শেষ সুযোগ। আর সময় দেয়া হবে না।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভবন ভাঙতে আদালতের দেওয়া নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই সময় চেয়ে আবেদন করেন বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ।
গত বছরের ৫ মার্চ আপিল বিভাগ বিজিএমইএ ভবন অবিলম্বে ভেঙে ফেলতে রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে (রিভিউ) করা আবেদন খারিজ করে দেন। তখন ভবন ভাঙতে কত দিন সময় লাগবে, তা জানিয়ে আবেদন করতে বলেন। বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ ভবন সরাতে তিন বছর সময় চেয়ে আবেদন করে। ১২ মার্চ আপিল বিভাগ আবেদন নিষ্পত্তি করে ছয় মাস সময় দেন ভবন সরাতে।
২০১৬ সালের ২ জুন বিজিএমইএর করা লিভ টু আপিল খারিজ হয়ে যায় আপিল বিভাগে। ওই বছরের ৮ নভেম্বর রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের পূর্ব পাশে অবস্থিত বিজিএমইএর ১৬ তলা ভবনটি অবিলম্বে সংগঠনের নিজ খরচায় ভেঙে ফেলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলে ৮ ডিসেম্বর রিভিউ আবেদন করে বিজিএমইএ।
এর আগে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ে বিজিএমইএ ভবন ভাঙার নির্দেশ দেয়া হয়। ‘হাতিরঝিল প্রকল্পে বিজিএমইএ ভবন একটি ক্যানসারের মতো’ উল্লেখ করে রায় প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। এই লিভ টু আপিল খারিজ করে রায় ঘোষণা করেন আপিল বিভাগ।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, ‘বেগুনবাড়ি খাল’ ও ‘হাতিরঝিল’ জলাভূমিতে অবস্থিত ‘বিজিএমইএ কমপ্লেক্স’ নামের ভবনটি নিজ খরচে অবিলম্বে ভাঙতে আবেদনকারীকে (বিজিএমইএ) নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে। এতে ব্যর্থ হলে রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ভবনটি ভেঙে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হলো। এ ক্ষেত্রে ভবন ভাঙার খরচ আবেদনকারীর (বিজিএমইএ) কাছ থেকে আদায় করবে তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button