
সরকারের চুড়ান্ত ব্যর্থতা, অকার্যকরীতা এবং বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম প্রতিরোধ করে মানুষ বাঁচানোর দাবিতে আজ সকালে পুরানা পল্টন মোড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বাম জোটের সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, সরকার দেশের গোটা বাজার ব্যবস্থাকে নৈরাজ্যের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।সরকার দেশের বাজার ব্যবস্থাকে ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দিয়েছে; বাজার নিয়ে ব্যবসায়ীদেরকে যা খুশী তাই করার সুযোগ করে দিয়েছে। এই সুযোগে মুনাফাখোর বাজার সিন্ডিকেট দেশের মানুষকে রীতিমতো জিম্মি করে ফেলেছে। বাজারে গেলে মনে হয় না দেশে কোন সরকার আছে। ক্ষমতায় থাকতে এখন আর ভোটের প্রয়োজন না থাকায় তারা একের পর এক স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।গত দুই বছরে ভোজ্য তেলের দাম আট দফা বাড়ানো হয়েছে। পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের দাম গত দুই বছরে ৫০৫ টাকা থেকে অবিশ্বাস্যভাবে এখন ৭৯৫ টাকায় উঠেছে। সরকারের ভূমিকা না থাকায় বিশ্ববাজারে কিছু মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বৃদ্ধি করে চলেছে। তিনি ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন , চুলার গ্যাসের দাম বিস্ময়করভাবে ১১৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পাঁয়তারা চলছে বিদ্যুৎসহ অন্যান্য জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির। কয়েকমাস আগে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা মানুষ এখনও সামাল দিয়ে উঠতে পারেনি।
জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক এর সভাপতিত্বে এই বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, বাসদ -মার্কসবাদীর কেন্দ্রীয় নেতা জহিরুল ইসলাম, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদুল ইসলাম সবুজ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতা আবদুল আলী এবং ওয়ার্কার্স পার্টি- মার্কসবাদীর বিধান দাস।
বক্তারা টিসিবিকে কার্যকর করা সহ গণবন্টন ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ অধিকার প্রতিষ্ঠায় এই জুলুমবাজ ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণসংগ্রাম জোরদার জোরদার করারও আহবান জানান।




