
নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরুদ্ধে ক্রমশই উত্তাল হয়ে উঠছে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলো। এবার বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মেঘালয়। বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) রাজ্যে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজধানী শিলংয়ের কিছু অংশে অনির্দিষ্টকালের জন্যে কারফিউ জারি করা হয়। পাশাপাশি স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে এলাকার ইন্টারনেট এবং এসএমএস সেবা।
জানা গেছে, শিলংয়ে কমপক্ষে দু’টো গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। স্থানীয় দোকান-বাজারেও অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে, ফলে পুলিশ সেগুলোকে বন্ধ করে দেয়।
টুইটারে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে শহরের অন্যতম প্রধান রাস্তায় একটি বিশাল মশাল মিছিল বের করা হয়।
এদিকে শিলং থেকে আড়াইশ কিলোমিটার দূরে উইলিয়ামনগর শহরে, নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতায় নামা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমাকে হেনস্থা করার অভিযোগ উঠেছে।
মেঘালয় পুলিশ তাদের টুইটার হ্যান্ডেলের মাধ্যমে গুজব না ছড়ানোর ব্যাপারে আবেদন করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শিলংয়ের কিছু অংশে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং এসএমএস এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করার ঘোষণা করেছে।
মেঘালয়ের পাশের রাজ্য আসামেও উত্তেজিত জনতা বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে নামা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কমপক্ষে দু’জন বিক্ষোভকারী মারা যায় বলে খবর।
ত্রিপুরা থেকে কোনও হানাহানির খবর না পাওয়া গেলেও, অশান্তি এড়াতে রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি দফতর বন্ধ রাখা হয়েছে।
বুধবার রাজ্যসভায় পাস হয় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল, পরে তাতে সম্মতি দেন রাষ্ট্রপতিও, ফলে বৃহস্পতিবার থেকেই সেটি আইনে পরিণত হয়েছে। কিন্তু সংসদে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাসের পর থেকেই উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোতে বিক্ষোভ-আন্দোলন শুরু হয়।




