জাতীয়শিরোনাম

বান্দরবান মহিলা কলেজে দেয়াল মজবুত করতে রডের সাথে বাঁশ!

বান্দরবান সরকারি মহিলা কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবনের উন্নয়নকাজে এবার রডের সাথে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। দেয়াল মজবুত করতেই বাঁশের ব্যবহার বলে উন্নয়নকাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা জানালেও অভিযোগ ওঠার পর কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বিকেলে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে প্রায় ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে মহিলা কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ করা হচ্ছে। কাজটিতে রডের সাথে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নির্মাণকাজের শ্রমিকেরা দেয়াল ঢালাই দেয়ার আগে রডের সাথে বাঁশের লম্বা ফালি বেঁধে দিচ্ছে। সাংবাদিকেরা ছবি তোলার পর কর্তৃপক্ষ নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের বালাঘাটায় বান্দরবান সরকারি মহিলা কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের কাজ সম্প্রতি শুরু হয়। অ্যাকাডেমিক ভবনের তৃতীয় তলায় বিজ্ঞানাগারের দেয়াল নির্মাণে (ড্রপ ওয়াল) রডের সাথে বাঁশ বেঁধে দেয়া হয়। বাঁশের বড় লম্বা ফালি রডের পাশাপাশি একসাথে তার দিয়ে বেঁধে দিয়ে কাজ করছিল নির্মাণ শ্রমিকেরা। পুরো দেয়ালটিতেই বাঁশের ব্যবহার করা হয়। কলেজের শিক্ষকেরা জানান, দেয়ালে বাঁশের ব্যবহার বন্ধ করতে বারবার বলা হলেও ঠিকাদার তাদের কোনো কথাই শুনেননি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করেছে। নির্মাণকাজে নিয়োজিত রাজমিস্ত্রি আলী হোসেন সাংবাদিকদের জানান, সিমেন্ট ধরে রাখতে ও দেয়াল মজবুত করতে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা বাঁশ খুলে ফেলার জন্য তাদের নির্দেশ দিলে পরে তা খুলে ফেলা হয়। এ দিকে কলেজের উন্নয়নকাজে বাঁশের ব্যবহার নিয়ে মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। শিক্ষকেরা অসন্তোষ প্রকাশ করে অবিলম্বে কাজ বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন। বালাঘাটা এলাকায়ও স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ বড়–য়া জানান, কাজটি মোটেও ঠিক হয়নি। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কাজ করা উচিত নয়। এ বিষয়ে উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী নুর হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা ঠিকাদারকে বাঁশ ব্যবহার করতে বলিনি। এটি হয়তো শ্রমিকেরা না বুঝে করেছে। তবে বাঁশ খুলে ফেলার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে জানান ওই প্রকৌশলী।
সুত্র: নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button