বাজারের আগুন সরকারকে স্পর্শ করছে না

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির দুই দিনব্যাপী সভার শেষদিনে আজ গৃহীত প্রস্তাবে বলা হয় নিত্যপণ্যের বাজারে লাগামহীন উর্ধ্বগতি স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের জীবনে বিপর্যয় নিয়ে এসেছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকরি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় ভোগ্যপণ্যের বাজারে চরম স্বেচ্ছাচারীতা চলছে। বাজার সিণ্ডিকেটের দাপটে মানুষ দিশেহারা। মোটা চাল, কাচা মরিচ, ডিম থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের দামে আগুন জ¦লছে। প্রস্তাবে ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করা হয় বাজারের আগুন সরকারকে স্পর্শ করছে না। সরকার যেন কুম্ভকর্ণের মত নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে। করোনা ও বন্যা দুর্যোগের কারণে ইতিমধ্যে তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্র সীমার নীচে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে এই বছরের মধ্যে আরো ৫০ লক্ষাধিক মানুষের দারিদ্রসীমার নীচে নেমে আসার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সভার প্রস্তাবে বলা হয়, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলেও পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের কার্যকরি ও বিশ^াসযোগ্য কোন পদক্ষেপ নেই। নিয়তির উপরই তারা সব ছেড়ে দিয়েছে। ‘যে যেভাবে পার বাঁচ’ এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অকার্যকারিতা বেসামাল সরকারের অকার্যকারিতাকেই তুলে ধরছে।
কেন্দ্রীয় কমিটির সভার রাজনৈতিক প্রস্তাবে বলা হয়, দেশ পরিচালনায় সরকারের রাজনৈতিক ও নৈতিক শক্তি ও ক্ষমতা না থাকায় সারা দেশে এক ধরনের নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। এই কারণেই করোনা মহামারীর সাথে দুর্নীতির মহামারীও একাকার হয়েছে। মানুষের অসম্মান-অমর্যাদাও প্রকট হয়েছে। সভার প্রস্তাবে বলা হয়, জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করে দেশের মানুষকে অপমান করা হয়েছে। নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নষ্ট করে ফ্যাসিবাদী শাসনকে প্রলম্বিত করা হচ্ছে। সভার প্রস্তাবে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে দেশের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দেশপ্রেমিক শক্তির বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আনছার আলী দুলালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য রাখেন পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, কেন্দ্রীয় নেত্রী বহ্নিশিখা জামালী, সরদার রইসউদ্দীন, নির্মল বড়ুয়া মিলন, সাইফুল ইসলাম, মাহমুদ হোসেন, স্নিগ্ধা সুলতানা ইভা, ইমরান হোসেন, জুই চাকমা, অরবিন্দু বেপারী বিন্দু প্রমুখ।
সভায় পার্টির সাংগঠনিক বিষয়াদি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।




