
বাংলাদেশ দখলের কোনো ইচ্ছা যুক্তরাষ্ট্রের নেই বলে দাবি করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মানুষের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদ দেখে আমি মর্মাহত হয়েছি। যাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী সহায়তার প্রস্তাব হয় বাংলাদেশে অভিযান, নয়তো বাংলাদেশকে দখল অথবা বাংলাদেশকে নিয়ন্ত্রণ করার, এমনকি যুদ্ধে জড়িত করার একটি প্রচেষ্টা।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশকে দখলে নেয়ার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই। আমি নিশ্চিত করতে চাই আমরা অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে চাই, এমন একটি অংশীদার যারা দুঃখজনকভাবে দীর্ঘ দিন ধরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। তাই আমার মনে হয় আমাদের কিছু কৌশল, কিছু জ্ঞান ও কিছু মূল্যবোধ রয়েছে।
বার্নিকাট বলেন, এ চ্যালেঞ্জ আমাদের যৌথভাবে মোকাবেলা করতে হবে। কেননা কোনো দেশ আজ এককভাবে সন্ত্রাসের মোকাবেলা করতে পারে না। সন্ত্রাসবাদীরা কোনো নির্দিষ্ট সীমান্তে কাজ করে না। তাই সন্ত্রাস দমন প্রচেষ্টায় আমরা বাংলাদেশকে অংশীদার হিসেবে দেখতে চাই।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত এক সভায় দেয়া বক্তব্যে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, গুলশানের হোলে আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ১ জুলাইয়ের সন্ত্রাসী হামলায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত, ক্ষুব্ধ ও হতাশাগ্রস্ত। এতে একজন আমেরিকান নাগরিকসহ ২০ জন জিম্মি প্রাণ হারিয়েছেন। এর পরপরই শোলাকিয়ায় বাংলাদেশে ঈদের সবচেয়ে বড় জামাতে বোমা হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে এ নিয়ে প্রায় ৭০টি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরাসহ আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বাংলাদেশের এসব সন্ত্রাসী হামলায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা করতে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি ধরে রাখতে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জবাব দিতে হবে। এসব সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে স্বচ্ছতার সাথে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয় করতে হবে। তদন্তের ফলাফল যাই হোক না কেন, তা খোলামনে মেনে নিতে হবে। কেবল এ ধরনের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই বাংলাদেশ সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা করতে পারবে।
‘বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক অপরাধচিত্রের একটি অংশ’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাসবাদী ঘটনার তদন্ত অন্য দেশকে অপরাধী খুঁজে পেতে সহায়তা করবে। এ ক্ষেত্রে একটি তথ্য-প্রমাণের মূল্য অনেক।




