
শাহীন রাজা : ভারত মহাসাগরে চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন ইকোনমিক টাইমস।
আলোচনার এজেন্ডায় উঠে আসে ভারতের প্রতিবেশী ইস্যু। এমন দুটি প্রতিবেশী বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপের জাতীয় নির্বাচন যথাক্রমে আগামী বছরের শুরুতে এবং এ বছরের শেষের দিকে। এক্ষেত্রে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি হলো- তার প্রতিবেশীদের বিষয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া উচিত হবে না, যা ভারতের জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। বি বি সি তাহলে দেশ দুটির স্বার্থ কি ভারতের স্বার্থের উপর নির্ভর করছে ? মালদ্বীপে কয়ক লক্ষ মানুষের বসবাস। আর বাংলাদেশে ১৮ কোটি। তারপরও কোন দেশের স্বার্থ বৃহৎ প্রতিবেশী দেশের স্বার্থের উপর নির্ভর করবে ! এটা আমাদের কাম্য। আমাদের স্বার্থ আমরাই ঠিক করবো।
এই সংবাদ থেকে স্পষ্ট, দক্ষিণ এশিয়ার বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশ। এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে হলে বাংলাদেশের সাথে আলোচনা করতে হবে। বাংলাদেশ স্বয়ং সম্পুর্ন, স্বাধীন সার্বভৌম একটি দেশ। যা করতে হবে, বাংলাদেশের সাথে করতে হবে। আর প্রতিবেশী হচ্ছে আমাদের ভালো বন্ধু। তাই বলে এই সুযোগে বন্ধুত্বের সীমা অতিক্রম করা ঠিক হবে ?
বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যার আশেপাশে স্বধর্মীও কোন দেশ নাই। বিশ্বে এর কোন নজীর নাই। তবে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যেও কোন মনস্তাপ নেই। বাংলাদেশের জনগণ, আবহমান বাংলার সংস্কৃতি এবং ধর্ম দুটি দুই হাতে নিয়ে চলছে। একটার সাথে আরেকটার কোন সংঘাত নেই। এই দুটোর যে কোন একটা নিয়ে কোন গোষ্ঠী বাড়াবাড়ি করলে জনগণ তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান করে। এ কারণেই বিশ্বের অনেক দেশ এমনকি প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকেও এই এদেশের লোক মানসিক ভাবে অনেক উন্নত।
সমতট এবং বঙ্গ জনপদের হাজার বছরের ইতিহাস হচ্ছে, স্বাধীনতার ইতিহাস। এই দেশের মানুষ, এখানকার প্রকৃতির মতোই। আষাঢ় – শ্রাবণে বৃষ্টি ভেজা কাদা জাল। শীতে শিশিরে ভিজে সূর্যের দিকে হাত বাড়ানো বুনো ঘাস। আবার চৈত – বৈশাখে প্রবল তাপদহ। বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তা – ভাবনা করার আগে এটা মাথায় রাখতে হবে।
এই ভূখন্ডের হাজার বছরের ইতিহাস হচ্ছে, বিদ্রোহের ইতিহাস। কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ইতিহাস। সুলতান, মুঘল কেউ পরাভূত করতে পারেনি। এদের আমলে অধিক সময় স্বাধীন ছিল। কিংবা গভর্নর নিয়োগ দেয়া হলেও স্বাধীনভাবেই শাসন পরিচালনা করতেন।
বৃটিশ উপনিবেশ সময়ে, এখানকার লোকেরা উপনিবেশ শাসনের বিরুদ্ধে সব থেকে সোচ্চার দেখা যায়। বৃটিশদের একটা বড় সময় ব্যয় হয় বাংলার বিদ্রোহ দমনে। তাই বৃটিশরা এই অঞ্চলের লোকদের প্রতি খুব প্রসন্ন ছিল না।
এই অঞ্চলে একমাত্র দেশ, রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছে। গোলটেবিল বৈঠক বা সাম্রাজ্যবাদী’র দালালী করে দেশ স্বাধীন করে নাই।
কথা হতে পারে প্রতিবেশী সহযোগিতা করেছে। এ জন্যে আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। এবং তাদের সাথে সবসময় বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চাই। একজন ভালো বন্ধু অবশ্যই প্রভুত্বের আচরণ করবে না। ভিয়েতনাম-ও তো চীনের সাহায্যে মার্কিনিদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ সশস্ত্র সংগ্রাম করেছে। ভিয়েতনাম কিন্তু স্বাধীন। কোন আঞ্চলিক বা পরাশক্তি বলে না, তাদের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে ভিয়েতনামের সাথে আলোচনা করতে হবে। পৃথিবীতে এমন উদাহরণ অনেক, অনেক আছে।
আবারও বিভিন্ন দেশের প্রতি বিনীত অনুরোধ, বাংলাদেশের স্বার্থ নিয়ে বাংলাদেশের সাথেই কথা বলতে হবে। সে যত বড়ই শক্তিশালী বা ঘনিষ্ঠ বন্ধু হোক না কেন। তাদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্তে উপনীত হলে, এ দেশের জনগণ মানবে না।




