
গোটা বিশ্বে এখন আতঙ্কের একটাই নাম করোনাভাইরাস। ক্রমেই ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসটি মনে হচ্ছে বিশ্বের কাছে মৃত্যুকূপের একটি চ্যালেঞ্জ। ভয়াবহ এ ভাইরাস চিহ্নিত হওয়ার পর থেকেই এর প্রতিষেধক বা টিকা আবিষ্কারের জন্য জোর তৎপরতা শুরু করেছেন বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা।
যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানির পর এবার বাংলাদেশেও শুরু হতে যাচ্ছে ভ্যাকসিন ট্রায়াল। ঔষধ প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে যুক্তরাজ্য ও চীনের সঙ্গেই কাজ করবে বাংলাদেশ।
বিশ্ব মহামারির এ সময়ে এমন গবেষণার অংশ হওয়া বাংলাদেশকে করোনা মোকাবিলায় একধাপ এগিয়ে রাখবে- এমনটাই মনে করেন দেশটির বিশেষজ্ঞরা। রোববার দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
করোনাভাইরাসের ওষুধ উৎপাদনের সঙ্গে দেশীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করা গেলে ভবিষ্যতে ভালো ফল আসবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।
বলছেন, এতে করে কভিড-১৯ মোকাবিলায় একধাপ এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গবেষণায় যুক্ত হওয়া টিম নির্বাচনে দক্ষতার পরিচয় দিতে হবে বাংলাদেশকে। কাজ করতে হবে ভবিষ্যতে করোনা মোকাবিলায় ঘনবসতির বাংলাদেশকে ভেবেচিন্তে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বেনজীর আহমেদ বলেন, আইইডিসিআরের পাশাপাশি অন্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে তাদের কাজে লাগালে পরিধি বাড়বে। পরবর্তী সময়ে সরকার টিকাদান করতে চাইলে তখন কাজে লাগবে। প্রাথমিকভাবে এ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে বাংলাদেশের হয়ে আইসিডিডিআরবির যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে ঔষধ প্রশাসন।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছেন ৮৮৭ জন। এ নিয়ে করোনায় মোট মারা গেছেন ২২৮ জন। এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৪ হাজার ৬৫৭।রোববার (১০ মে) দুপুরে মহাখালী থেকে নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ২৩৬ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৬৫০ জন। মৃত্যু ১৪ জনের মধ্যে পুরুষ ১০ জন, নারী ৪ জন। এর আগে, শনিবার (৯ মে) দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৮ জনের মৃত্যু হয়।
পূর্বপশ্চিম




