উপমহাদেশশিরোনাম

বাংলাদেশি ছাত্রীকে ভারতছাড়া করার যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না অমর্ত্য

বিশ্বভারতীর এক বাংলাদেশি ছাত্রীকে ভারত ছাড়তে বলার কোনো অকাট্য যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন।
শনিবার শান্তিনিকেতনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
প্রসঙ্গত, ফেসবুকে ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) বিরোধী পোস্ট দেওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতীর ওই বাংলাদেশি ছাত্রীকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয় বিজেপি সরকার।
দ্য টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া জানায়, ফেসবুকে সিএএ বিরোধী একাধিক ছবি পোস্ট করেন ওই বাংলাদেশি ছাত্রী। এতে তার বিরুদ্ধে ভারতবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অমর্ত্য সেন বলেন, ‘সংবাদপত্রের খবর ছাড়া আমার কাছে কোনো গরম রিপোর্ট নেই। তাই ওই পড়ুয়াকে দেশ ছাড়তে বলার পেছনে কোনো অকাট্য যুক্তি খুঁজে পাচ্ছি না।’
দিল্লির সাম্প্রদায়িক হামলা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত করে দেখা হোক পুলিশ অকর্মণ্য নাকি প্রশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করেছে।
এই নোবেলজয়ী বলেন, ‘দিল্লি দেশের রাজধানী এবং এটি কেন্দ্রশাসিত। সেখানে যা ঘটেছে তাতে আমি চূড়ান্ত উদ্বিগ্ন। সেখানে সংখ্যালঘুরা যদি নির্যাতিত হয় এবং পুলিশ তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় বা পুলিশ তার দায়িত্ব না পালন করে, তবে সেটা সত্যিই গভীর উদ্বেগের বিষয়।’
তিনি বলেন, ‘ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। এখানে হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করা যাবে না। একজন ভারতীয় নাগরিক হিসেবে গোটা ঘটনায় উদ্বিগ্ন হওয়া ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই।’
বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে বিক্ষোভ বন্ধে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রার আল্টিমেটামের কয়েক ঘণ্টা পর রবিবার রাজধানী দিল্লিতে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সিএএ-বিরোধী মুসলিমদের ওপর সশস্ত্র হামলা শুরু করে আইনটির সমর্থকরা।
কয়েক দশকের মধ্যে দিল্লির নজিরবিহীন এই সাম্প্রদায়িক হামলায় কমপক্ষে ৪২ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন তিন শতাধিক। আহতদের মধ্যে প্রায় ৭০ জন গুলিবিদ্ধ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ‘হিন্দুয়োঁ কা হিন্দুস্তান’, ‘জয় শ্রীরাম’- এসব স্লোগান দিয়ে সংখ্যালঘু মুসলিমদের বাড়িঘর, দোকানপাট ও মসজিদে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
বিবিসি বাংলা জানায়, পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে দেখা যায়। কোথাও আবার নিজ হাতে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙেছে পুলিশ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button