বস্তায় আদা চাষ,মেটাতে পারে পারিবারিক চাহিদা

সিরাজুল ইসলাম, সিংগাইর, মানিকগঞ্জ : আদা মসলা জাতীয় ফসল। আদিকাল থেকে যার ব্যবহার প্রতি পরিবারে। আদা ছায়াযুক্ত স্হানেও জন্মে। বর্তমানে ১ কেজি আদা কিনতে ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা লাগে । আমদানি করে এর চাহিদা মেটাতে হয়।
গ্রাম কিংবা শহরে পরিবারপ্রতি ১০ টি বস্তায় আদা চাষ করলে পারিবারিক চাহিদা মেটানো সম্ভব । ২৫-৩০ বছর আগেও গ্রামের প্রয় প্রতিটি বাড়িতে ছাইয়েব স্তুপের পাশে আদা চাষ হতো। তা দিয়ে পরিবারের চাহিদা মিটতো। এটারই স্মার্ট সংস্করণ বস্তায় আদা চাষ। ১০ বস্তা আদাচাষে সর্বোচ্চ ১০ বর্গফুট জায়গা প্রয়োজন। ফ্ল্যাটের বারান্দা,ভবনের ছাদ বা বাড়ির আশপাশের ওইটুকু জায়গা ব্যবহার করে আমরা আমাদের চাহিদা পূরণ করতে পারি।
বস্তায় আদা চাষ ছড়িয়ে দিতে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা কৃষি অফিস বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। গত দু’বছর ধরে কৃষি অফিসের সামনে শতাধিক বস্তায় আদা চাষ করা হয়েছে। যা দেখে জনসাধারণ উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন । ইতিমধ্যে অনেকেই বস্তায় আদা চাষ করছেন বলে জানা গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বেঁলে দু আঁশ মাটির সাথে সামান্য রাসায়নিক ও জৈব সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হয়। এরপর বস্তায় ভরে এপ্রিল মাসে আদার কাটিং লাগতে হয়। ১০ মাস পর ফেব্রুয়ারিতে আদা পরিপক্ব হয়। ফলন প্রতি বস্তায় দেড় থেকে ২ কেজি।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো.হাবিবুল বাশার চৌধুরী বলেন, চলতি বছর বান্দরবান থেকে ২ টন পাহাড়ি জাতের আদা সংগ্রহ করে কৃষক পর্যায়ে ছড়িয়ে দিয়েছি। এ বছর ৫০ হাজার বস্তাসহ পুরো উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে আদার আবাদ হয়েছে । বস্তায় আদা চাষ পদ্ধতি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে আমদানি নির্ভরতা কমে আসব বলেও তিনি জানান।




