বদলে যাচ্ছে তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতি

তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান মস্কো সফরের পর এমন পরিকল্পনার কথা জানালেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুধবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাবুসওগলু বলেছেন, তুরস্ক ও রাশিয়া একটি যৌথ সামরিক, গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে। অচিরেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
আনাদোলু বার্তা সংস্থার খবরে বলা হয়, রাশিয়ার জঙ্গিবিমান ভূপাতিতের ঘটনায় ৯ মাস সম্পর্ক স্থগিত থাকার পর মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট এরদোগান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠক দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের পথ প্রশস্ত করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কর্মকর্তারা ‘আজ রাতে’ সেইন্ট পিটার্সবার্গ যাবেন। তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তুর্কি সশস্ত্রবাহিনীর কর্মকর্তারা ও গোয়েন্দা প্রধান আমাদের প্রতিনিধিদলে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। সেখানে মন্ত্রিপর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।’
এরদোগানের রাশিয়া সফর ও আঙ্কারা-মস্কো সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয় পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, কেননা, ন্যাটো সদস্য তুরস্ক ক্রমে পূর্ব অভিমুখে সরে যাচ্ছে। কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যপদ এবং গত ১৫ জুলাইয়ের অভ্যুত্থান চেষ্টাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে পাশ্চাত্য দেশটির ওপর সদাচরণ করতে পারেনি বলে মনে করছে আঙ্কারা।
গত ২৪ নভেম্বর তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে রাশিয়ার জঙ্গিবিমান ভূপাতিতের ঘটনা উল্লেখ করে কাবুসওগলু বলেন, তুরস্কের উভয় পাইলটকে ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, যে ক’জন পাইলট রাশিয়ার জেট ভূপাতিতের সাথে জড়িত ছিল তারা এখন রিমান্ডে আছে। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার জন্য নয় বরং তারা ফেতুল্লাহ গুলেনের সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হওয়ার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। বিচার বিভাগ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সব কিছু তদন্ত ও মূল্যায়ন করবে।
তুরস্ক বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বিতর্কিত ধর্মীয় নেতা ফেতুল্লাহ গুলেনের সমর্থকেরা অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিল। আঙ্কারা গুলেনকে তাদের হাতে হস্তান্তর করার আহ্বান জানিয়েছে। এ বিষয়টিও পাশ্চাত্যের সাথে দেশটির সম্পর্কের তিক্ততার একটি কারণ।
রাশিয়ার জেট ভূপাতিত করার পর দুই দেশের সম্পর্ক স্থগিত হয়ে যায়। গত জুন পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করা হয় এবং রুশদের তুরস্ক সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এরপর গত জুনে এরদোগান এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে চিঠি লেখা এবং ফোনে পুতিনের সাথে আলাপ করার পর দুই দেশের সম্পর্ক ফের প্রাণ ফিরে পায়।
গত ১ জুলাই সোচিতে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লেভরভের সাথে কাবুসওগলুর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পুতিন অভ্যুত্থান চেষ্টার সময় তুরস্কের নির্বাচিত সরকারের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি অভ্যুত্থানে নিহতের ঘটনায় শোক জ্ঞাপন করেন। এরদোগান এই অভ্যুত্থান চেষ্টাকে আধুনিক তুরস্কের ইতিহাসে সব চেয়ে ঘৃণ্য কাজ বলে অভিহিত করেছেন।




