বদলে যাওয়া বাংলাদেশের গল্প

নিদাহাস ট্রফিই বদলে দিলো বাংলাদেশকে। টি-২০ ক্রিকেটে এগোতে পারছে না বাংলাদেশ। কী করলে, কী হবে- সেগুলোও তারা বোঝে না! এমন অভিযোগ ছিল। খোদ সিনিয়র ক্রিকেটাররাও এ নিয়ে আফসোস করেছেন। এক টুর্নামেন্ট বদলে দিয়েছে তাদের। প্রশংসায় ভাসছে সাকিব-মাহমুদুল্লাহরা। ভারতের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রোহিত শর্মাও জানিয়ে দিলেন, ‘ওরা ভয়ডরহীন এক দল। কোনো কোনো সময় ওদের অমন ক্রিকেট বিপদ ডেকে আনে। আবার কখনো সাফল্য। সব মিলিয়ে এটা ভালো একটা দিক।’ প্রশংসা করেছেন তিনি দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদেরও। ‘তারা তরুণদের আগলে রাখে। পথ দেখায়।’
শুধু এখানেই সব শেষ নয়। নিজেদের পারফরম্যান্সে এখন স্বস্তি দেখছে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও। মুশফিকুর রহীম, সাকিব আল হাসানসহ অনেকেই তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছেন। অন্তত টি-২০ নিয়ে যেসব কথা সহ্য করতে হতো সেটা এখন আর হবে না বলেই তারা মনে করছেন।
মুশফিকুর রহীম বলেছেন, ‘হোমে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই উন্নতি ছিল। নিদাহাস ট্রফিতে সে ধারা ধরে রেখে সাফল্য পাওয়া গেছে। ফলে আমরা মনে করি আমরা সঠিক পথেই রয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘এ সাফল্যের পর আমরা যে অনেক উন্নতি করে ফেলেছি তা নয়। আমাদের এখনো উন্নতির অনেক স্থান রয়ে গেছে। সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করব।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের টপ অর্ডার এখনো শেষ পর্যন্ত গিয়ে খেলতে পারছে না। যদিও আমরা দুটি ম্যাচে ভালো শেষ করেছি।’
বোলারদের প্রসঙ্গেও মুশফিকের মূল্যায়ন, ‘বোলারদের পাওয়ারপ্লেতে আরো উইকেট পেতে হবে। ডেথ ওভারেও তাদের আরো বেশি মনোযোগী হয়ে নিখুঁত বোলিং করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘টি-২০ ক্রিকেটের উইকেট বেশির ভাগ সময়ে থাকে ফ্ল্যাট। সেখানে ভারতের বিপক্ষে বেশ ভালো বোলিং হয়েছে। আমার মনে হয় এখানে টি-২০ তে আমরা অনেক আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছি। যেমনটা রয়েছে আমাদের ওয়ানডে ও টেস্ট ক্রিকেটে।’
ভারতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যাটসম্যানরা যদি আর ১০টা বেশি রান করতে পারতেন। বোলাররা তাদের ওভার থেকে আর ১০টা রান কম দিতেন তাহলে ম্যাচের রেজাল্ট কী দাঁড়াত। তবে আমরা এ থেকে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছি। অনেক শিক্ষাও নিয়েছি। এরপর এমন ম্যাচে সবাই বুঝে-শুনেই এগোবে বলেই আমার বিশ্বাস।’
সৌম্য শেষ ওভারে কী করলেন এমন প্রশ্নটাও সর্বত্র। আসলে সৌম্য সরকার পার্টটাইম বোলার। তাকে দিয়ে শেষ ওভার করানো নিয়েও অনেক প্রশ্ন। রোহিত শর্মা বলেছেন, ‘সৌম্য সরকারের কিছু করার নেই। আমরা জানতাম সে পার্টটাইম বোলার। তাকে আমরা ঠিকমতো খেললে হয়ে যাবে। সেটা হয়েছেও।’
তবে মুশফিকুর রহীম বলেন, ‘অমন মুহূর্তে বিশ্বের অনেক নামীদামি বোলারও তাদের নার্ভ ধরে রাখতে ব্যর্থ হন। এ মাঠেই মালিঙ্গা পারেননি মারলন স্যামুয়েলকে কন্ট্রোল করতে ২০১২-এর ওয়ার্ল্ড টি-২০তে। তবে এটা ঠিক, আমরা একটা সুযোগ হাতছাড়া করেছি। এ থেকে আমাদের অনেক শিক্ষা ও অর্জনও ছিল।’
আগে এ ফরম্যাটে কদাচিৎ ভালো করত। কিন্তু এবার গোটা টুর্নামেন্টেই ভালো খেলেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। সফলতা এখানেই।
এ আসরে মুশফিকও খেলেছেন বদলে যাওয়া এক ব্যাটসম্যান হিসেবেই! তার ক্যারিয়ারের ৬৮ ম্যাচে যে চারটি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে, তার মধ্যে সম্প্রতি দুটি এ টুর্নামেন্টে। একটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজে। তার ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ৭২ রানও এ টুর্নামেন্টেই। টানা দুই ম্যাচে অপরাজিত থেকে ৭২ করে রান করে মুশফিক নিজেকে নিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অসাধারণ এক জয়ে তার একক নৈপুণ্য মুশফিক সম্পর্কে ধারণাই বদলে গেছে অনেকের। টি-২০ ফরম্যাটে তিনি কেন? এ প্রশ্নটা উঠতে শুরু করেছিল। মুশফিক সেটা বন্ধ করে দিয়েছেন প্রেমাদাসায়। নয়া দিগন্ত




