বদরগঞ্জে পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় দেড় হাজার মানুষের বিরুদ্ধে তিন মামলা

রাহুল সরকারঃ রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউপি নির্বাচনে পরাজিত তিন মেম্বার সমর্থকরা তিনটি ভোট ভোটকেন্দ্র ভাঙচুরসহ প্রিজাইডিং অফিসারকে মারধর করেছে। এসময় তাদের ইট-পাটকেল ও লাঠির আঘাত থেকে রক্ষা পায়নি প্রিজাইডিং অফিসার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বহন করা গাড়ি। এমনকি ভোটকেন্দ্রের ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়েরও চেষ্টা চালায় উত্তেজিত মেম্বার সমর্থকরা। এঘটনায় বদরগঞ্জ থানায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। এতে মাত্র দু’জনের নাম উল্লেখ থাকলেও দেড় হাজার আসামীকে অজ্ঞাত দেখানো হয়েছে।
মামলা সুত্রে জানা যায়- ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭ টায় বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের সাহেদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার কর্তৃক নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচন অফিসে রওনা দেয়ার প্রাক্কালে আচমকা ৪৫০-৫০০ জন উত্তেজিত মানুষ গাড়িতে আক্রমণ করে। এসময় তারা সাতটি খালি ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। কর্তব্যরত পুলিশ তাদের কবল থেকে রক্ষা পেতে দু’ রাউন্ড ছুঁড়লে উত্তেজিত মানুষ লাঠিসোটা নিয়ে গাড়িতে আক্রমণ চালায়। তাদের লাঠির আঘাত থেকে ভোটকেন্দ্রের দরজা জ্বানালাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা পর্যন্ত রেহাইন পায়নি। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যায় টহল পুলিশের পাশাপাশি র্্যাব ও বিজিবি সদস্যরা। তারা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এঘটনায় প্রিজাইডিং অফিসার আবুল কালাম সাহেদ সরকারী কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন।
বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বুজরুক হাজীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে সন্ধ্যা ৭ টা ১৫ মিনিটে নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর ৪৫০-৫০০ জন উত্তেজিত মানুষ ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে এবং ড্রাইভারের কাছ প্রিজাইডিং অফিসারকে বহন করা গাড়ির চাবি ছিনিয়ে নেয়। এসময় উত্তেজিত মানুষ ব্যালট বাক্স ছিনতাইয়েরও চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৬ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। এঘটনায় প্রিজাইডিং অফিসার মোজাহেদুল ইসলাম বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মামলা করেছেন।
ফকিরগঞ্জ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সন্ধ্যা ৭ টায় নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত মেম্বার সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে আক্রমণ চালিয়ে পুলিশকে অবরুদ্ধ করে। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেওয়ান আসিফ পেলে মানুষজনকে শান্ত করার চেষ্টা চালালে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। এসময় উত্তেজিত মানুষজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশকে বহন করা গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিসোটা নিয়ে ভোটকেন্দ্রে আক্রমণ চালায়। এসময় পুলিশ ৩০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে উত্তেজিত মানুষজনকে ছত্র ভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এঘটনায় প্রিজাইডিং অফিসার মিজানুর রহমান কাজী বাদী হয়ে বদরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় দু’জনের নাম উল্লেখ থাকলেও ৫০০জনকে অজ্ঞাত দেখানো হয়েছে।
তবে ওই তিনটি কেন্দ্রে পুলিশ গুলি বর্ষণ করলেও তাতে কেউ হতাহত হয়নি। এঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত মাত্র দু’জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান বলেন, ওই তিন ভোট কেন্দ্রে পরাজিত মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকরা এসব ঘটনার সাথে জড়িত। তাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




