বগুড়ায় আড়াই মাসে করোনায় মুত্যু ২৬, আক্রান্ত ১৮১৮

গেল আড়াই মাসে বগুড়ায় করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ১ এপ্রিল প্রথম করোনা শনাক্তের পর এ পর্যন্ত (১৭ জুন) জেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ২৬ জন। একই সময়ে ১০ হাজার ৯৮০ জনের নমূণা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮১৮ জন। এবং সুস্থ হয়েছেন ১৭৩ জন।
বগুড়া জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেব অনুযায়ী নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সুস্থতার হার ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আক্রান্তদের মধ্যে বগুড়া সদরে ১২৭৪ জন, শাজাহানপুরে ৭৮ জন, গাবতলীতে ১১৬ জন, কাহালুতে ৫০ জন, শেরপুরে ৬৫ জন, সারিয়াকান্দিতে ৪৯ জন, দুপচাঁচিয়ায় ৪৫ জন, নন্দীগ্রামে ১৪ জন, ধুনটে ৩৭ জন, সোনাতলায় ২৬ জন, আদমদীঘিতে ২৩ জন, শিবগঞ্জে ৩৮ জন। অবশিষ্ট চারজনের তথ্য জানাতে পারেনি সিভিল সার্জন অফিস।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালকে করোনা আইসোলেশন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে ১২০ শয্যায় করোনা রোগী চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সেখানে করোনা রোগী ভর্তি হয়ে পূর্ণ হয়ে গেছে। তাই শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরো ৪০টি শয্যা করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করার সিদ্ধান্ত হলেও তা এখনও প্রস্তুত হয়নি। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ ও বেসরকারী টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ হাপসাতালে পিসিআর ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে করোনা শনাক্তের কাজ চলছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১১৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে এবং একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট ১৮১৮ জন আক্রান্ত হলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বগুড়ার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত চব্বিশ ঘন্টায় উপজেলাভিত্তিক আক্রান্তের সংখ্যা বগুড়া সদরে ৬৪ জন, গাবতলীতে ১৮ জন, কাহালুতে ৯ জন, ধুনটে ৯ জন, দুপচাঁচিয়ায় ৬ জন, শাজাহানপুরে ৪ জন, সারিয়াকান্দিতে ২ জন, শেরপুরে ১ জন, সোনাতলায় ১ জন, শিবগঞ্জে ১ জন এবং অপর একজনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ থেকে পাওয়া ১৮৮টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ৬২ জন পজিটিভ, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজে ১৫৬টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে ৫৪ জন পজিটিভ। আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ ৭৮ জন, নারী ৩৪ জন ও শিশু ৪ জন।
এদিকে নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পেতে ১৫-২০ দিন পর্যন্ত সময় লাগছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ সময়ে নমুনা রিপোর্ট না পেয়ে করোনা উপসর্গ রোগী ও তাদের স্বজনরা ক্ষুদ্ধ। তারা দ্রুত রিপোর্ট দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।




