ফ্রাইলিঙ্কের ৫ উইকেট : খুলনার ৩৪ রানের জয়
ঠিক আগের দিনই সিলেট থান্ডারের বিপক্ষে সাব্বির রহমানকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। বাজে পারফরম্যান্সের কারণে বাদ দেওয়া হয়েছিল তাকে। এক ম্যাচ পরই অবশ্য একাদশে ফেরানো হলো এই ডানহাতি ব্যাটারকে। খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে ফেরার ম্যাচে সাব্বির আসরে নিজের সেরা ইনিংসটাই খেললেন।
তার ৩৯ বলে করা ৬২ রানের ইনিংসে ভর করে একপর্যায়ে খুলনার দেওয়া ১৮০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের স্বপ্ন দেখছিল কুমিল্লা। কিন্তু সাব্বিরের দুর্দান্ত ইনিংসটা ম্লান করেছেন রবি ফ্রাইলিঙ্ক। মাত্র ১৬ রান খরচায় ৫ উইকেট তুলে নিয়ে খুলনাকে এনে দিয়েছেন দারুণ এক জয়। ৩৪ রানের এই জয়ে প্লে-অফের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেছে খুলনা।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করে ২ উইকেটে ১৭৯ রান করেছিল খুলনা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১০ বল বাকি থাকতে ১৪৫ রানে থেমেছে কুমিল্লার ইনিংস।
অথচ ওপেন করতে নেমে সাব্বির যেভাবে খেলছিলেন, তাতে যতক্ষণ তিনি উইকেটে ছিলেন বেঁচেছিল কুমিল্লার আশা। অধিনায়ক ডেভিড মালার এদিন মাত্র ১ রান করে ফিরলেও সাব্বির ও সৌম্য সরকার তৃতীয় উইকেটে ৫১ রান যোগ করেন। কিন্তু ১১তম ওভারে সৌম্য (২২) ও মহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে (০) ফিরিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দেন ফ্রাইলিঙ্ক। এর আগে ওপেনার স্টিয়ান ফন জিলকে (১২) ফিরিয়ে উইকেট উৎসবের শুরু করেছিলেন তিনিই।
ইয়াসির আলি উইকেটে এসেই হাত খুলে খেলতে লাগলেন। সাব্বিরে সঙ্গে তার ৪৮ রানের জুটিও হলো। কিন্তু ১৫তম ওভারের শেষ বলে সাব্বিরকে ফিরিয়ে দেন আমির। ম্যাচ থেকেও কুমিল্লা ছিটকে যেতে থাকে ধীরে ধীরে। ফেরার আগে সাব্বির এদিন তার ইনিংসটি সাজান ৭ চার ও ২ ছক্কায়। ইয়াসির ১৫ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় করেন ২৭ রান।
১৮তম ওভারে ফ্রাইলিঙ্ক আরো ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচে নিজের ৫ উইকেট পূরণ করেন। ওয়াহাব রিয়াজ ও থিসারা পেরেরার পর ফ্রাইলিঙ্ক তৃতীয় বোলার যিনি বিপিএলে ৫ উইকেট পেলেন।
এর আগে ব্যাটিংয়ে খুলনাকে বড় পুঁজি এনে দেন আরেক দক্ষিণ আফ্রিকান রাইলি রুশো। খেলেন ৩৬ বলে ৭১ রানের টর্নেডো ইনিংস। ৬টি চারের সঙ্গে হাঁকান ৪টি ছক্কা। দুই ওপেনার নাজমুল ইসলাম শান্ত ৩৮, মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৯ ও মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ২৪ রান করেন।
কুমিল্লার পক্ষে ১টি করে উইকেট নেন সৌম্য সরকার ও ডেভিড উইসে। ম্যাচসেরা হয়েছেন রবি ফ্রাইলিঙ্ক।
১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চার নম্বরে এখন খুলনা। তাদের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলে ১০ পয়েন্ট নিয়ে কুমিল্লা আছে ঠিক পরের স্থানে।




