ফেরিঘাটের চাঁদাবাজী নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৩, চাঁদাবাজ ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ

মাহতাবুর রহমান,আমতলী প্র্তিনিধি : বরগুনার ফেরিঘাটগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া চাঁদাবাজী চলছে। গণমাধ্যমে প্রকাশের পরও প্রশাসন নির্বিকার। এ নিয়ে প্রায়ই ঘটছে সংঘর্ষের ঘটনাও।
২৫ মার্চ শনিবার দুপুরে জেলার আমতলী-পুরাকাটা ফেরিঘাটের আমতলী ঘাটে চাঁদা ওঠানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পিয়ারা বেগম, শেখ মোহাম্মদ আলী ও ইমরান নামের ৩ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমরানকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করেন। পিয়ারা বেগমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি রাখেন ও আলীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়।
পিয়ারা বেগমের ছেলে স্থানীয়ঘাট শ্রমিক জিয়াউর রহমান বলেন, আমতলী- পুরাকাটা ফেরিঘাটের দুই পাড়েই যাবাহনের সিরিয়াল নিয়ন্ত্রণের নামে চাঁদা আদায় হয়। বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপ, প্রাইভেটকার সহ বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে বরগুনা জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নামে টোকেন ধরিয়ে দিয়ে দীর্ঘদিন যাবত এমটাই চলে আসছিল। কিন্তু শনিবার দুপুরে এ নিয়ে রাজ্জাক ফকির সহ কয়েকজনের সঙ্গে চাঁদা আদায়কারীদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রানা, হৃদয় সহ আট থেকে দশ জন চাঁদা আদায়কারী তাদের লোহার রড, হাতুড়ি দিয়ে হামলা করে। এ সময় পাশে থাকা পিয়ারা বেগম, শেখ মোহাম্মদ আলী ও ইমরান নামের তিনজন আহত হলে তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্থানীয়রা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক কাংকিতা মন্ডল তৃনা বলেন, ইমরান নামের আহত এক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহত অপর এক নারীকে এখানে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
ঘটনার পর আমতলী থানার এসআই আব্দুল বারেকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন একটু মারামারির ঘটনা ঘটেছে যা সমাধান করে দেয়া হয়েছে।
পরে জানা যায় শেখ মোহম্মদ আলীকে থানায় ডেকে এনে ভয় দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে আমতলী থানার এসআই আব্দুল বারেক চাঁদাবাজ মোঃ রানা দফাদার ও হৃদয় ভান্ডারীকে ছেড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২৬ মার্চ রবিবার দুপুরে ভুক্তভোগী শেখ মোহম্মদ আলী আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন। দ্রুত চাঁদাবাজদের রক্ষাকারী পুলিশ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন তিনি।
জানাগেছে, বরগুনা ট্রাক ও কভারভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের টোকেনের নামে রানা দফাদার, হৃদয় ভান্ডারী, রহিম, রাহাত, কাওসার, সাগর ও মিন্টুসহ ১০-১২ জন চাঁদাবাজ দীর্ঘদিন ধরে আমতলী পায়রা নদী ফেরিঘাট এলাকায় অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করে আসছে। তারা ফেরি পাড়াপাড় হতে আসা গাড়ী ও ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করছে। চাঁদাবাজদের কর্মকান্ডে গাড়ী চালক ও ফেরিঘাটের ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। শনিবার সকালে ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান, শেখ মোহম্মদ আলী, মোঃ মোশাররফ হোসেন ও শেখ ইমরান অবৈধভাবে চাঁদা আদায় বন্ধের প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয় চাঁদাবাজরা। পরে চাঁদাবাজ রানা দফাদার, হৃদয় ভান্ডারী, রহিম, রাহাত, কাওসার, সাগর ও মিন্টু ব্যবসায়ীদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের হামলায় শেখ ইমরান (১৬), শেখ মোহম্মদ আলী (৫৫) ও পিয়ারা বেগম (৭০) আহত হয়। আহতরা আমতলী ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। খবর পেয়ে চাঁদাবাজ রানা দফাদার ও হৃদয় ভান্ডারীকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আটক করে। দুই চাঁদাবাজ আটকের একঘন্টা পরে পুলিশ আহত শেখ মোহম্মদ আলীকে থানায় ডেকে নেয়। ওইখানে এসআই আব্দুল বারেক আহত শেখ মোহম্মদ আলীকে ভয় দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে আটক চাঁদাবাজ রানা দফাদার ও হৃদয় ভান্ডারীকে ছেড়ে দিয়েছেন। এমন অভিযোগ এনে রবিবার দুপুরে আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে ভুক্তভোগী শেখ মোহম্মদ আলী সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, রানা দফাদার ও হৃদয় ভান্ডারী পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পেয়েই ফেরিঘাট এলাকার ব্যবসায়ী ও আমাকে জীবন নাশের হুমকি দিচ্ছে। দ্রæত চাঁদাবাজদের রক্ষাকারী আমতলী থানার এসআই আব্দুল বারেক ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান।
আমতলী থানার এসআই মোঃ আব্দুল বারেক সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে চাঁদাবাজ ছেড়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, মিমাংশার স্বার্থে আটক দুইজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি একেএম মিজানুর রহমান বলেন, ফেরিঘাট এলাকায় সকল ধরনের চাঁদা আদায় বন্ধ। কিন্তু সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে চাঁদাবাজ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।




