slider

ফেনীর আ.লীগ নেতাকে দায়ী করেই যুবলীগ নেতার রহস্যজনক আত্মহত্যা

আবদুল্যাহ রিয়েল,ফেনী প্রতিনিধি: ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের সুজাপুর গ্রামের চুনিমাঝি বাড়ির মোখসুদ আলম বিপ্লব (৩৬) নামে এক যুবলীগ নেতার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে তার বসত ঘরের শয়ন কক্ষের (বুতের) আড়ার সঙ্গে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত সোমবার ৬ মার্চ মো মোখসুদ আলম বিপ্লব নামে তার নিজ ফেইজবুক আইডিতে আ.লীগ নেতা রফিককে কেন্দ্র করে লিখেন (মাচ্ছা রফিকের মিথ্যা ও সাজানো মামলায় আজকে আবারও পুন্নো জামিন নিলাম ফেনী জজকোট)

বিপ্লব সোনাগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক। সাবেক ৬নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

বিপ্লবের ৩ জন পুত্র সন্তান রয়েছে। বড় ছেলের বয়স ৯ বছর,মেঝো ছেলের বয়স ৬ বছর,ছোট ছেলের বয়স ২ বছর। ঘটনার সময় তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে ছিলেন। তার মা আনোয়ারা বেগম অসুস্থ বোনকে নিয়ে ঢাকার একটি হাসপাতালে অবস্থান করছেন। তার পরিবারের সদস্যরা কেউ বাড়িতে ছিলেননা।

এলাকাবাসীদের দাবী বিপ্লব গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেনি। বিপ্লব সকালে বাজারে চা-সিগারেট খাওয়ার পর তার একটা ফোন আসে, ফোন আসার সাথে সে বাড়ির দিকে যায়। বাড়ি যাওয়ার ঘন্টা খানেক পর বিপ্লবের মৃত্যূর খবর শুনতে পাই। যে কক্ষে তাকে ঝুলন্ত পাওয়া গেছে সেখানে একটি টেবিল, চেয়ার ও খাট রয়েছে। এছাড়াও তার পায়ের অংশ মাটিতে লেপ্টে ছিল। তার সাথে দীর্ঘদিনের আ.লীগ নেতা রফিকের দুরত্ব ছিল। হয়ত সেই কোন্দলকে কেন্দ্র করে বিপ্লবকে মেরে দায় এড়াতে ঝুলিয়ে রেখেছে। ঘটনাটি রহস্য জনক বলে এলাকাবাসীর ধারনা। পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসবে আসল রহস্য এমনটাই দাবী দলীয় নেতাকর্মী সহ এলাকাবাসীর।

যুবলীগ নেতা বিপ্লবের মৃত্যুর জন্য চেয়ারম্যান’র স্বামী উপজেলা আ.লীগের নেতা রফিক কে দায়ী করেন স্ত্রী আকলিমা। স্ত্রী আকলিমা কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন নাজিম নামে রফিকের এক সহযোগী ইয়াবাসহ ধরা পড়ার পর নাজিমকে বাঁচাতে বিপ্লবকে মাদক আইনে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটিয়েছে রফিক।

নিহত বিপ্লবের ভাবী রুমা আক্তার বলেন,আামার মেয়ে তার চাচাকে দুপুরের ভাত খাওয়ার জন্য ডাকতে গেলে কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে জানালায় উঁকি দিয়ে গলায় ওড়না প্যাচানো অবস্থায় দেখতে পান। এসময় তার চিৎকারে আমরা ছুটে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত দেখতে পেয়ে পাড়া প্রতিবেশীকে ডেকে আনি। তিনি কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, সে আত্মহত্যা করতে পারেনা, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

মৃত্যুর আগে ফেসবুক সে হত্যার পরিকল্পনার জন্য সোনাগজী উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য রফিকুল ইসলামকে দায়ী করেন। ফেসবুক লাইভ ও ভিডিও বার্তায় বিপ্লবকে বলতে শোনা গেছে রফিক তাকে মাদকের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন। তিনি মিথ্যা মামলা ও রফিকের অপকর্মের প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যার পর লাশ গুম করার পরিকল্পনা করছে। তার যদি মৃত্যু হয় তার জন্য রফিক দায়ী থাকবে বলে আওয়ামীলীগ ও প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চান।

সোনাগাজী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামছুল আরেফিন বলেন আমাদের ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক বিপ্লবকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। কারন বিপ্লব অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নেতা। সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকবার বলেছে সেই নেতার কথা, তাকে হত্যা কারা করবে কিভাবে করবে। পুলিশের সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে আমি এর ন্যায় বিচার চাই।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামীলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, বিপ্লবের সাথে আমার কোন দ্বন্ধ নেই। সে আমার সমকক্ষও নয় । তিনি ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদ হোসেন দাইয়ান বলেন, লাশ উদ্ধারের পর ময়না তদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। প্রতিবেদনের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button